`
ঢাকা | বাংলাব্দ
COX'S BAZAR WEATHER

কক্সবাজার বাইপাসের পাশে প্রকাশ্যে পাহাড় কাটার অভিযোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 14, 2026 ইং
কক্সবাজার বাইপাসের পাশে প্রকাশ্যে পাহাড় কাটার অভিযোগ ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত
ad728

কক্সবাজার শহরের বাইপাস সড়কের পাশে ও নোঙর এলাকার কাছাকাছি প্রকাশ্যে পাহাড় কেটে মাটি সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শ্রমিক দিয়ে পাহাড়ের মাটি কেটে ঠেলাগাড়ি ও ট্রাকে করে অন্যত্র নেওয়া হচ্ছে। এতে পাহাড় ও পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে এমন কর্মকাণ্ড চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


ছবিতে দেখা যায়, পাহাড়ের একটি অংশ কেটে গভীর গর্ত তৈরি করা হয়েছে। কোথাও পাহাড়ের ঢাল প্রায় খাড়া করে ফেলা হয়েছে। কাটা মাটি সরানোর জন্য ঘটনাস্থলে রয়েছে একাধিক ঠেলাগাড়ি ও মাটি কাটার সরঞ্জাম। পাহাড়ের ওপরের অংশও কোথাও কোথাও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি ও জায়গা সমতল করার সঙ্গে জড়িত একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয়। কখনো শ্রমিক দিয়ে মাটি কেটে সরানো হয়, আবার কখনো যানবাহনে করে কাটা মাটি অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। এতে ধীরে ধীরে ছোট-বড় পাহাড় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।


পরিবেশবিদরা বলছেন, পাহাড়ের স্বাভাবিক ঢাল কেটে ফেললে মাটির স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়। বর্ষায় অতিবৃষ্টির পানি কাটা অংশে প্রবেশ করলে মাটি নরম হয়ে ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এতে আশপাশের বসতি, সড়ক ও মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে।


কক্সবাজারে পাহাড়ধস নতুন কোনো ঘটনা নয়। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, বাইপাস সড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনপথের পাশে দিনের বেলায় শ্রমিক লাগিয়ে পাহাড় কাটার মতো কর্মকাণ্ড কীভাবে প্রকাশ্যে চলতে পারে।


অভিযোগ রয়েছে, পাহাড় কাটার সঙ্গে জমির মালিক, দখলদার, মাটি ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কেউ কেউ জড়িত থাকতে পারেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। স্থানীয়দের মতে, শুধু শ্রমিক আটক বা সরঞ্জাম জব্দ করে অভিযান শেষ না করে পাহাড় কাটার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদেরও চিহ্নিত করা জরুরি।


সচেতন মহলের দাবি, বাইপাস সড়কের পাশে ও নোঙর এলাকায় সরেজমিন তদন্ত করে কারা পাহাড় কাটছে, জায়গাটি কার মালিকানাধীন বা দখলে রয়েছে, কাটা মাটি কোথায় নেওয়া হচ্ছে এবং এর পেছনে কারা রয়েছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হোক।


একই সঙ্গে কাটা পাহাড়ের পরিমাণ নির্ধারণ, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের উদ্দেশ্যে পাহাড় কাটা হচ্ছে কি না তা যাচাই এবং ভবিষ্যতে এ এলাকায় পাহাড় কাটা বন্ধে স্থায়ী নজরদারির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


সচেতন মহলের মতে, কক্সবাজারের পাহাড় ও বনাঞ্চল রক্ষা শুধু পরিবেশের বিষয় নয়, এটি জননিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি সম্পৃক্ত। পাহাড় কেটে বসতি, স্থাপনা কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সুযোগ দেওয়া হলে ভবিষ্যতে এর গুরুতর পরিণতি হতে পারে। তাই পাহাড় কাটার সময়ই প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করা জরুরি; পাহাড় কেটে সাবাড় হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : BanglaDock

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
রান নেই–উইকেট নেই, তবু ম্যাচসেরা

রান নেই–উইকেট নেই, তবু ম্যাচসেরা