সাধারণ দুধের বিকল্প হিসেবে কালো তিল, কাজুবাদাম ও খেজুর দিয়ে তৈরি ‘ব্ল্যাক মিল্ক’ বা কালো দুধ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে। পুষ্টিকর উপাদানে তৈরি এই পানীয়ের গাঢ় রং যেমন কৌতূহল তৈরি করছে, তেমনি ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়ানোর দাবিও সামনে আসছে। তবে পানীয়টি খেলে ত্বক উজ্জ্বল হয়—এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
কালো দুধ তৈরি করতে লাগবে এক বাটি কালো তিল, এক বাটি কাজুবাদাম, ৬ থেকে ৭টি খেজুর, সামান্য লবণ ও প্রয়োজনমতো পানি।
প্রথমে শুকনো কড়াইয়ে কালো তিল হালকা করে ভেজে নিতে হবে। তিল থেকে সুগন্ধ বের হলে চুলা বন্ধ করতে হবে। বেশি ভাজলে তিল পুড়ে স্বাদ তেতো হয়ে যেতে পারে। এরপর ভাজা তিল, কাজুবাদাম, খেজুর, সামান্য লবণ ও পানি ব্লেন্ডারে দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। মিশ্রণটি মিহি হলে পরিষ্কার পাতলা কাপড় দিয়ে ছেঁকে তরল অংশ আলাদা করলেই তৈরি হবে কালো দুধ। চাইলে ঠান্ডা করেও পান করা যায়। ছেঁকে নেওয়ার পর অবশিষ্ট তিল ও বাদামের অংশ অন্য রান্নায় ব্যবহার করা যেতে পারে।
কালো তিলে রয়েছে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, আয়রন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। কাজুবাদাম থেকে পাওয়া যায় স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন, কপার ও জিঙ্কসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান। অন্যদিকে, খেজুর প্রাকৃতিক শর্করা, ফাইবার ও বিভিন্ন খনিজের উৎস। খেজুর ব্যবহারে বাড়তি চিনি ছাড়াই পানীয়তে মিষ্টি স্বাদ আনা সম্ভব। তবে এতে প্রাকৃতিক শর্করা থাকায় পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন।
পুষ্টিগুণ থাকলেও শুধু কালো দুধ পান করলেই ত্বকের রং বা ঔজ্জ্বল্য বদলে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ত্বক ভালো রাখতে সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ঘুম ও উপযুক্ত ত্বকচর্চা গুরুত্বপূর্ণ।
কালো তিল বা কাজুবাদামে অ্যালার্জি থাকলে এই পানীয় এড়িয়ে চলতে হবে। ত্বকে ব্যবহারের জন্য মিশ্রণটি লাগাতে চাইলে আগে ত্বকের ছোট অংশে পরীক্ষা করা উচিত। জ্বালা, চুলকানি বা লালচে ভাব দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ধুয়ে ফেলতে হবে।
BanglaDock