ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলা নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চয়তায় ছিল আয়ারল্যান্ড। চার ঘণ্টার আলোচনা ও ভোটাভুটির পর মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নেয় দলটি। তবে ম্যাচে নেমেও প্রতিবাদ জানায় আইরিশ খেলোয়াড়েরা। কালো আর্মব্যান্ড পরা, ইসরায়েলের জাতীয় সংগীতের সময় মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকা এবং ম্যাচের আগে করমর্দম না করার মধ্য দিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান তারা।
হাঙ্গেরির ডেব্রেসেনের নাগিয়ারদেই স্টেডিয়ামে ইসরায়েলের জাতীয় সংগীতের সময় আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড় ও ডাগআউটে থাকা সদস্যরা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ম্যাচ শুরুর আগে দুই দলের মধ্যে প্রচলিত করমর্দন এবং অধিনায়কদের পতাকা বিনিময়ও হয়নি। এফএআই জানিয়েছিল, গাজা সংঘাতে নিহতদের স্মরণে খেলোয়াড়েরা কালো আর্মব্যান্ড পরবেন।
ম্যাচের আগে আয়ারল্যান্ড কোচ হেইমির হালগ্রিমসন বলেছিলেন, ‘আমরা গণহত্যার বিরুদ্ধে খেলছি।’ তার মন্তব্যের সমালোচনা করে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। অন্যদিকে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন ইসরায়েলি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান। এর মধ্যেই কয়েকজন আইরিশ খেলোয়াড় ম্যাচটি না খেলার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
মাঠে অবশ্য দারুণ পারফরম্যান্স করে আয়ারল্যান্ড। ১৪ মিনিটে ট্রয় প্যারটের গোলে এগিয়ে যায় তারা। দুই মিনিট পর অ্যাডাম ইদাহ ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ২৫ মিনিটে জ্যাক ময়লানের গোলে ৩-০ লিড নেয় আইরিশরা। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধানেই জয় পায় আয়ারল্যান্ড।
ময়লানের গোল উদযাপনও আলোচনায় আসে। গোলের পর নিজের কালো আর্মব্যান্ড খুলে সেটি উঁচিয়ে ধরেন এবং তাতে চুমু দেন। এরপর আয়ারল্যান্ডের জার্সিতে থাকা ব্যাজেও চুমু দেন তিনি।
এদিকে আয়ারল্যান্ডের নিয়মিত গোলরক্ষক গ্যাভিন বাজুনুও প্রতিবাদ হিসেবে ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়ান। নিরীহ মানুষের হত্যার প্রতিবাদে ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলা তার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে জানান তিনি। তার জায়গায় গোলবার সামলান কাওইমহিন কেলাহার।
BanglaDock