`
ঢাকা | বাংলাব্দ
COX'S BAZAR WEATHER

ফেসবুকে ‘বিদ্যুৎ বিল কমানোর’ বিজ্ঞাপনে প্রতারণার ফাঁদ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 11, 2026 ইং
ফেসবুকে ‘বিদ্যুৎ বিল কমানোর’ বিজ্ঞাপনে প্রতারণার ফাঁদ ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত
ad728

‘স্মার্ট উপায়ে বিদ্যুৎ বিল কমান’, ‘বিদ্যুৎ খরচ কমবে ২০ থেকে ৩৫ শতাংশ’ কিংবা ‘যে কোনো সকেটে লাগালেই সাশ্রয়’—এমন চটকদার বিজ্ঞাপনে সয়লাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক। বিজ্ঞাপনে ছোট্ট ‘স্মার্ট এনার্জি সেভার’ বা ‘পাওয়ার সেভার’ ডিভাইস বাসার যেকোনো সকেটে লাগিয়ে রাখলেই প্রিপেইড ও পোস্টপেইড মিটারের বিদ্যুৎ বিল উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে বলে দাবি করা হচ্ছে।


অনলাইনে এসব ডিভাইসের দাম ৪৯০ থেকে ৬৯০ টাকা পর্যন্ত রাখা হয়েছে। কম দাম, ক্যাশ অন ডেলিভারি এবং ‘বিল ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমবে’—এমন প্রচারণায় আকৃষ্ট হয়ে অনেক গ্রাহক পণ্য কিনছেন। তবে পণ্যটির কার্যকারিতা প্রমাণে বিজ্ঞাপনগুলোতে স্বীকৃত পরীক্ষাগারের প্রতিবেদন, স্বাধীন পরীক্ষার ফল কিংবা বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না।


রাজধানীর দক্ষিণখানের বাসিন্দা নুরুল আলম, যিনি ইলেকট্রনিক সামগ্রী বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন, জানান তার পরিচিত অনেকেই ফেসবুকে দেখা এসব বিজ্ঞাপনের সত্যতা জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তার মতে, এ ধরনের ডিভাইস ব্যবহার করে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল কমানোর দাবি সম্পূর্ণ অমূলক।


বিভিন্ন সময়ে Best Shop, 2inshop, Allion Shop, Sellerybd.com, Osthir Collection, Sarashopbd.com, Daily Spark Bd, Carry Bd, Best Shopping, EG SaleBd, One Stop Galaxy, TRT Shop, Discount Shop, Kinelio, The Asia Express, Good Shop, Vat 30, Nobo Mart Bd, Genious Mart Bd, Zero.O, Instant Product, Naturo Mart.com, Paikari.com ও Dorkari Bazarসহ বিভিন্ন অনলাইন পেজ ও শপে এ ধরনের বিজ্ঞাপন দেখা গেছে।


বিদ্যুৎ প্রকৌশল ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা এবং একই ধরনের ডিভাইস নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ আবাসিক গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল ২০ থেকে ৩৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়ার দাবির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বাসাবাড়ির বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব মূলত কিলোওয়াট-আওয়ার বা ইউনিটের ভিত্তিতে হয়। কোনো যন্ত্র কত সময় ধরে কত পরিমাণ সক্রিয় বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে, তার ওপরই মূলত ব্যবহৃত ইউনিট নির্ধারিত হয়।


এ ধরনের ‘এনার্জি সেভার’ ডিভাইসে সাধারণত ক্যাপাসিটর, ছোট সার্কিট ও এলইডি ইন্ডিকেটরের মতো উপাদান থাকে। ক্যাপাসিটরের মাধ্যমে পাওয়ার ফ্যাক্টর সংশোধনের প্রযুক্তি শিল্পকারখানায় বাস্তব ও কার্যকর হলেও সেটিকে বাসাবাড়ির বিদ্যুৎ বিল ২০ থেকে ৩৫ শতাংশ কমানোর উপায় হিসেবে প্রচার করা বিভ্রান্তিকর। সাধারণ আবাসিক গ্রাহকের কিলোওয়াট-আওয়ার ব্যবহার এতে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে না।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘পাওয়ার ফ্যাক্টর’ শব্দটির অপব্যবহার করেও এসব পণ্যের প্রচারণা চালানো হচ্ছে। শিল্পকারখানার বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় পাওয়ার ফ্যাক্টর সংশোধনের প্রয়োজন থাকলেও একটি ছোট প্লাগ-ইন ক্যাপাসিটর বাসায় লাগিয়ে ২০, ৩০ বা ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল কমানো সম্ভব—এমন দাবি সন্দেহজনক।


বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (ডেসকো) ব্যবহার শেষে বৈদ্যুতিক যন্ত্রের সুইচ বন্ধ রাখা, অপ্রয়োজনে লাইট-ফ্যান না চালানো, চার্জার ব্যবহারের পর সকেট থেকে খুলে রাখা, শক্তি সাশ্রয়ী আলো ব্যবহার এবং ফ্রিজ ব্যবহারে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার ওপরে রাখার বিষয়েও নির্দেশনায় বলা হয়েছে।


বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করে বলছেন, নিম্নমানের ডিভাইস সার্বক্ষণিক সকেটে লাগিয়ে রাখলে অগ্নিকাণ্ড বা বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। নিম্নমানের প্লাস্টিক, তার, ক্যাপাসিটর বা সার্কিটে ত্রুটি থাকলে অতিরিক্ত তাপ সৃষ্টি হয়ে শর্ট সার্কিটসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই অচেনা কোনো বৈদ্যুতিক ডিভাইস ব্যবহারের আগে এর মান, বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা ও অনুমোদন যাচাই করা জরুরি।


বিদ্যুৎ বিল কমানোর নামে মিটার বা বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় কারসাজি থেকেও গ্রাহকদের সতর্ক করা হয়েছে। মিটারের রিডিং কমানো, মিটার ‘ধীর’ করা কিংবা বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় অবৈধ হস্তক্ষেপের প্রস্তাব দেওয়া হলে তা থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


বাসাবাড়ির বিদ্যুৎ বিল কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো বিদ্যুতের ব্যবহার কমানো। অপ্রয়োজনে এসি, ফ্যান, লাইট ও অন্যান্য যন্ত্র চালু না রাখা, এলইডি ব্যবহার, দক্ষ বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার এবং প্রিপেইড মিটারে নিয়মিত বিদ্যুৎ ব্যবহার পর্যবেক্ষণের মাধ্যমেই বৈজ্ঞানিকভাবে বিল কমানো সম্ভব।


এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) একজন কর্মকর্তা বলেন, ফেসবুকে নানা ধরনের অপপ্রচার বা ভুয়া তথ্য দেখা যায়, যার সবগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বিটিআরসির নজরে আসে না। তবে নির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে এবং বিষয়টি বন্ধ বা সরানোর প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মকে, যেমন ফেসবুক, অনুরোধ জানাতে পারে বিটিআরসি। তবে বিষয়টি মূলত বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বেশি সম্পৃক্ত।


বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য জানতে ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসির (ডেসকো) মনিটরিং সেলের নির্বাহী প্রকৌশলী এ.টি.এম রাসেল আহসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : BanglaDock

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
টেকনাফে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ১৪ কেজি আইস ও ৫ হাজার ইয়াবা জব

টেকনাফে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ১৪ কেজি আইস ও ৫ হাজার ইয়াবা জব