হামজা চৌধুরী ও শমিত সোমের মতো প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়ে এবারের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে অংশ নিতে ঢাকায় এসে বাংলাদেশকে সবচেয়ে শক্তিশালী দল হিসেবে অভিহিত করেছেন ভারত কোচ নওশাদ মুসা। তবে দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে এলেও দশমবারের মতো শিরোপা জয়ের লক্ষ্য ভারতের।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) শুরু হচ্ছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। বিকেল সাড়ে ৩টায় টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে ভারত। ফিফা উইন্ডোতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে ভারতের মূল জাতীয় দল। এ কারণে সাফে ভারতের ‘বি’ দলের দায়িত্ব পালন করবেন নওশাদ মুসা। মূল দলের দায়িত্বে থাকবেন খালিদ জামিল। ভারতের ২৮ সদস্যের দলে অনূর্ধ্ব-২৩ পর্যায়ের খেলোয়াড়ের সংখ্যাই বেশি। পাশাপাশি ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইএসএল) চলায় শুরুতে ক্লাবগুলো থেকে সব খেলোয়াড়কে পাচ্ছেন না কোচ।
এত সীমাবদ্ধতার পরও বাংলাদেশকে সমীহ করে নিজেদের ফাইনালে দেখছেন নওশাদ। তিনি বলেন, তাঁর বিবেচনায় এই মুহূর্তে বাংলাদেশই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী দল। আশা করছেন, ফাইনালে বাংলাদেশের মুখোমুখি হবেন। প্রথম ম্যাচের আগে কয়েকজন খেলোয়াড়কে না পাওয়াকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করলেও নিজের হাতে থাকা দল নিয়েও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তিনি।
তবে ভারতের দলকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই বাংলাদেশের। ২০০৯ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপেও অনূর্ধ্ব-২৩ দল নিয়ে এসেছিল ভারত। সেবার ফাইনালে মালদ্বীপকে টাইব্রেকারে ৩-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে তারা। এর আগে সেমিফাইনালে স্বাগতিক বাংলাদেশকে ১-০ গোলে পরাজিত করেছিল ভারত। অর্থাৎ তারকাদের বাইরে রেখেও সাফ জয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে দলটির।
সাফে ভারতের সাফল্যের ইতিহাসও বেশ সমৃদ্ধ। ১৯৯৩ সালে প্রথম শিরোপা জয়ের পর ১৯৯৭, ১৯৯৯, ২০০৫, ২০০৯, ২০১১, ২০১৫, ২০২১ ও ২০২৩ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। সব মিলিয়ে নয়বারের শিরোপাজয়ী ভারত এবার ঢাকায় এসেছে দশম ট্রফির স্বপ্ন নিয়ে। সর্বশেষ ২০২৩ সালে ফাইনালে কুয়েতকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল দলটি।
এবারের আসরে দ্বিতীয় সারির দল পাঠালেও ফেভারিটের তালিকায় ভারতের অবস্থান শীর্ষে। বাংলাদেশের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। গ্রুপ পর্বের দুটি ম্যাচ ও সেমিফাইনালে জিতলে ফাইনালে বাংলাদেশ-ভারতের দেখা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই প্রত্যাশাই জানিয়েছেন ভারত কোচ নওশাদ।
সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সও আশাব্যঞ্জক। গত বছরের ১৮ নভেম্বর ঢাকায় এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে ভারতের মাঠে দুই দলের লড়াই গোলশূন্য ড্র হয়েছিল।
BanglaDock