প্রধান শহরের ওপর জনসংখ্যার চাপ কমানো এবং আধুনিক পর্যটনবান্ধব আবাসন ও অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) বাস্তবায়ন করছে ‘স্বপ্নচূড়া আবাসিক এলাকা’ প্রকল্প। পাহাড় ও সমুদ্রঘেরা পরিবেশে গড়ে ওঠা এই প্রকল্পকে কক্সবাজারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পিত নগরায়ন ও পর্যটন সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কউক সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ১৫ তলা বিশিষ্ট চারটি আবাসিক ভবনে মোট ৩৩৯টি আধুনিক ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়েছে। শুক্রবার এসব ফ্ল্যাট ও প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।
৩৩৯টি আধুনিক ফ্ল্যাট
প্রকল্পে নির্মিত চারটি সুউচ্চ ভবনে আধুনিক নকশার ফ্ল্যাট, প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা এবং পরিকল্পিত অবকাঠামো নিশ্চিত করা হয়েছে। কউকের দাবি, এটি কক্সবাজারের অন্যতম বড় পরিকল্পিত আবাসন উদ্যোগ।
কৌশলগত অবস্থান
মূল শহরের প্রবেশমুখে অবস্থিত হওয়ায় প্রকল্পটির গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। আশপাশে ইতোমধ্যে পিবিআই কার্যালয়, পুলিশ লাইনস, জেলা কারাগারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি নির্মাণাধীন রয়েছে পাঁচ তারকা মানের প্যাসিফিক সানসেট হোটেল।
পর্যটন ও বাণিজ্যের সম্ভাবনা
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই এলাকা ভবিষ্যতে কক্সবাজারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক, আবাসিক ও বাণিজ্যিক জোনে পরিণত হতে পারে। পর্যটকদের জন্যও এটি নতুন আকর্ষণ হিসেবে ভূমিকা রাখবে, কারণ মূল শহরে প্রবেশের পথেই আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে গড়ে ওঠা এই উপশহর দৃশ্যমান হবে।
পরিকল্পিত নগরায়নের উদ্যোগ
কউক বলছে, স্বপ্নচূড়া আবাসিক এলাকা শুধু একটি আবাসন প্রকল্প নয়; এটি কক্সবাজারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পিত নগর সম্প্রসারণের অংশ। পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সমুদ্রের নৈসর্গিক পরিবেশের সঙ্গে আধুনিক নগরজীবনের সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছে এই প্রকল্পে।
স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ী ও সুধীজনের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজারের আবাসন, পর্যটন এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি প্রধান শহরের ওপর চাপ কমিয়ে নতুন নগরকেন্দ্র গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
BanglaDock