রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একাধিক প্রার্থী থাকলে সেদিন দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোট গ্রহণ করা হবে।
ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বৃহস্পতিবার তফশিল ঘোষণা করেন। এই নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন নির্বাচনি কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
তফশিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১৬ আগস্ট, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট এবং ভোটগ্রহণ হবে ২০ আগস্ট।
সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে। অর্থাৎ সংসদ সদস্যরাই এই নির্বাচনের ভোটার।
রাষ্ট্রপতির পদ থেকে গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আয়োজন করতে হয়। এ লক্ষ্যে সংসদ সচিবালয় থেকে ভোটার তালিকা সংগ্রহ করেছে নির্বাচন কমিশন।
রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হবে এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে। মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্য প্রস্তাবক এবং আরেকজন সংসদ সদস্য সমর্থক হিসেবে স্বাক্ষর করবেন। প্রার্থীর নিজেরও সম্মতিসূচক স্বাক্ষর থাকতে হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী, যদি একজন বৈধ প্রার্থীই থাকেন, তাহলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয় না। তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। তবে একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদ সদস্যদের ভোটে বিজয়ী নির্ধারিত হবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, অতীতে বেশিরভাগ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। একক প্রার্থী থাকলে ১৮ আগস্টই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে যেতে পারে।
সংসদীয় গণতন্ত্র চালুর পর ১৯৯১ সালে একাধিক প্রার্থী হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। এরপর প্রতিবারই সরকারি দলের মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসছেন।
BanglaDock