`
ঢাকা | বাংলাব্দ
COX'S BAZAR WEATHER

গ্যাস ও কয়লা সংকটে ৪১ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, সর্বোচ্চ লোডশেডিং ৩৭৫৭ মেগাওয়াট

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 11, 2026 ইং
গ্যাস ও কয়লা সংকটে ৪১ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, সর্বোচ্চ লোডশেডিং ৩৭৫৭ মেগাওয়াট ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত
ad728

দেশে গ্যাস ও কয়লার তীব্র সংকটে ৪১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। চালু থাকা কেন্দ্রগুলোর বেশিরভাগই পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। এর ফলে রাজধানীর বাইরে শিল্পাঞ্চলসহ গ্রামাঞ্চলে তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। গত ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে আগের সব রেকর্ড ভেঙে দেশে সর্বোচ্চ লোডশেডিং দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াটে।


বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে গড়ে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে। গত রোববার বিকেলে সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট, যা সোমবার রাত ১টায় বেড়ে ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াটে পৌঁছায়। এর আগে সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের রেকর্ড ছিল ৩ হাজার ৫১২ মেগাওয়াট।


পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর দৈনিক চাহিদা প্রায় ২৫২ কোটি ঘনফুট হলেও বর্তমানে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। ফলে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সাড়ে তিন থেকে চার হাজার মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। জ্বালানি সংকট ও মেরামতের কারণে ৪১টি কেন্দ্র সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।


গত ২১ জুলাই মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকেই গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বর্তমানে টার্মিনালটি আংশিক সচল থাকলেও পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


কয়লা সরবরাহ সংকটও বিদ্যুৎ উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পটুয়াখালী তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র অর্ধেক সক্ষমতায় চলছে এবং ভারতের আদানি পাওয়ার থেকেও বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে গেছে। সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়লা পরিবহনে বিলম্ব হওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।


বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গ্রামাঞ্চলে কোথাও ঘণ্টায় ঘণ্টায়, আবার কোথাও একবার বিদ্যুৎ গেলে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত ফিরে আসছে না। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিকাজ, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং অনলাইনভিত্তিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে।


সিলেট, বগুড়া, রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। শিল্প উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে উৎপাদন লাইন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং জেনারেটর চালাতে বাধ্য হওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে।


বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, গ্যাস ও কয়লা সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে এক-দুই দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, তাপমাত্রা ও বিদ্যুতের চাহিদা বাড়তে থাকলে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত লোডশেডিং পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।


জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সংকট দীর্ঘদিনের গ্যাস উৎপাদন হ্রাস, এলএনজির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, কয়লা সরবরাহের অনিশ্চয়তা এবং বিদ্যুৎ খাতের কাঠামোগত সমস্যার ফল। তারা দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, জ্বালানি অপচয় রোধ, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : BanglaDock

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বিশ্বকাপের দুই ম্যাচে বেটিং সন্দেহ, তদন্তের মুখে বিশ্বচ্যাম্

বিশ্বকাপের দুই ম্যাচে বেটিং সন্দেহ, তদন্তের মুখে বিশ্বচ্যাম্