দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পে। সাতকানিয়ার রাস্তার মাথা থেকে জাঙ্গালিয়া পর্যন্ত ২১ দশমিক ৭ কিলোমিটার সড়কে প্রশস্তকরণ, মাটি ভরাট, ড্রেনেজ উন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত কাজ এখন পুরোদমে চলছে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের আওতায় তিনটি প্যাকেজে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের মাধ্যমে মহাসড়কের উভয় পাশে ৬ ফুট করে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। কাজ শেষ হলে সড়কের প্রস্থ দাঁড়াবে ৩৩ দশমিক ৭৮ ফুট। জাঙ্গালিয়া অংশে প্রায় ৯০০ মিটার চার লেন সড়কও নির্মাণ করা হচ্ছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে কাজ শুরু হয়েছে এবং আগামী এপ্রিল ২০২৭ সালের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। বর্তমানে একটি প্যাকেজের প্রশস্তকরণ কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে, অন্য দুটি প্যাকেজের প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সার্বিকভাবে প্রকল্পের অগ্রগতি প্রায় ৩০ শতাংশ।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগিয়ে চলছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে প্রকল্প শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। নির্মাণকাজ চলাকালে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং জনভোগান্তি কমানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক। প্রতিদিন এ পথে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং পর্যটনকেন্দ্রিক বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। বিশেষ করে পটিয়া, চন্দনাইশ, দোহাজারী ও সাতকানিয়ার বিভিন্ন অংশে দীর্ঘদিন ধরে যানজট ও ধীরগতির কারণে ভোগান্তি ছিল।
পরিবহনসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সড়ক প্রশস্ত হলে যানজট কমবে, যাতায়াতের সময় হ্রাস পাবে এবং পণ্য পরিবহন আরও গতিশীল হবে। এতে জ্বালানি ব্যয় ও পরিবহন খরচও কমতে পারে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, পর্যটন, মাছ, লবণ ও কৃষিপণ্য পরিবহনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দ্রুত বাজারজাত করার সুযোগ বাড়ায় স্থানীয় অর্থনীতিতেও গতি আসবে।
তবে স্থানীয়দের মতে, শুধু সড়ক প্রশস্ত করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। অবৈধ দখল উচ্ছেদ, নির্ধারিত বাসস্টপ, নিরাপদ পথচারী পারাপার, কার্যকর ড্রেনেজ, সড়কবাতি এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।
মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে এখন ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে মাটি কাটা, ভরাট, সমতলকরণ এবং সড়কের ভিত্তি প্রস্তুতের কাজ চলছে। নির্মাণ অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রশস্ত সড়কের অবয়বও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।
প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হলে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। পাশাপাশি যানজট নিরসন, যাতায়াতের সময় কমানো এবং দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের অর্থনীতি ও পর্যটনে নতুন গতি সৃষ্টির প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
BanglaDock