প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে দৈনন্দিন জীবনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। নানা কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিগত অনুভূতি, সৌন্দর্য, অর্থনীতি ও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েও অনেকে এআইয়ের পরামর্শ নিচ্ছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সংবেদনশীল বিষয়ে এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করা ঠিক নয়।
চেহারা ও সৌন্দর্যের মূল্যায়ন
চেহারার সৌন্দর্য, পোশাক বা ব্যক্তিগত উপস্থিতি নিয়ে এআইয়ের মতামত সবসময় বাস্তবসম্মত নাও হতে পারে। অ্যালগরিদম অনেক সময় ব্যবহারকারীকে সন্তুষ্ট রাখার মতো উত্তর দিতে পারে। তাই এ ধরনের বিষয়ে বিশ্বস্ত মানুষের মতামত বেশি কার্যকর হতে পারে।
আবেগ ও ভালোবাসার বিচার
কেউ ভালোবাসে কি না, সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কী—এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর এআই বিশ্লেষণ করতে পারলেও মানুষের জটিল অনুভূতি বাস্তবভাবে অনুভব করতে পারে না। আবেগগত সংকটের ক্ষেত্রে বন্ধু, পরিবার বা প্রয়োজন হলে পেশাদারের সহায়তা নেওয়া ভালো।
বুদ্ধিমত্তা ও আত্মমর্যাদা
নিজের বুদ্ধিমত্তা, যোগ্যতা বা আত্মমর্যাদা নির্ধারণের জন্য এআইয়ের ওপর নির্ভর করাও ঠিক নয়। এআই তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারে, কিন্তু মানুষের ব্যক্তিত্ব, সক্ষমতা ও আত্মমূল্যের পূর্ণ মূল্যায়ন করতে পারে না।
আর্থিক পরামর্শ
বিনিয়োগ, ঋণ, সঞ্চয় বা বড় আর্থিক সিদ্ধান্তে শুধু এআইয়ের পরামর্শের ওপর নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ। ব্যক্তিগত আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজন হলে পেশাদার আর্থিক বিশেষজ্ঞ বা হিসাবরক্ষকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বাস্তব জীবনের সামাজিক ও মানবিক সাহায্য
এআই তথ্য ও পরামর্শ দিতে পারে, কিন্তু বাস্তব জীবনের মানবিক সহায়তার বিকল্প নয়। জরুরি সময়ে কাউকে হাসপাতালে নেওয়া, বিপদে পাশে দাঁড়ানো কিংবা বাস্তব পরিস্থিতিতে সরাসরি সহযোগিতা করার মতো কাজ এআই করতে পারে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই মূলত ডেটা ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা। তাই এটিকে বন্ধু বা জীবনের একমাত্র আশ্রয় হিসেবে বিবেচনা না করে বাস্তব সামাজিক সম্পর্ক, মানুষের সহানুভূতি ও পারস্পরিক যোগাযোগকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
BanglaDock