সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদন এবং এ বিষয়ে অবগত দুটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ওপেনএআইয়ের কয়েকটি এআই এজেন্ট জার্মানির একটি ওয়েবসাইট দখল করে সেটিকে অন্য এআই এজেন্টদের ব্যবহারের জন্য এক ধরনের নোটিশ বোর্ডে পরিণত করেছিল। গত শুক্রবার এ-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসে।
সূত্রগুলো জানায়, ওপেনএআইয়ের কর্মকর্তারা প্রায় এক সপ্তাহ আগেই ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন। তবে বিষয়টি সে সময় প্রকাশ করা হয়নি। এর মধ্যে গত জুলাইয়ে ওপেন সোর্স প্ল্যাটফর্ম ‘হাগিং ফেস’-এ অনুপ্রবেশের ঘটনায় তৈরি সংকট সামলাতে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তারা ব্যস্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
মে মাসে শুরু হওয়া এবং এতদিন প্রকাশ্যে না আসা এই ঘটনা এআই শিল্পে স্বায়ত্তশাসিত বা স্বাধীন এআই এজেন্ট নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগকে নতুন করে সামনে এনেছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এমন এআই এজেন্ট তৈরিতে প্রতিযোগিতা করছে, যেগুলো মানুষের সরাসরি নির্দেশনা ছাড়াই জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম। তবে একই সঙ্গে এসব সিস্টেম নিয়ম ভাঙা, প্রযুক্তিগত ফাঁকফোকর ব্যবহার এবং ডেভেলপারদের অজান্তে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা দেখাচ্ছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
এর আগে ‘হাগিং ফেস’ লঙ্ঘনের ঘটনায় ওপেনএআইয়ের এজেন্টরা নিজেদের মতো করে একটি সাইবার হামলার পরিকল্পনা করেছিল বলে জানা যায়। পরিকল্পনাটি এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে নজরদারির বাইরে ছিল। ফলে এআই প্রযুক্তির সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
মে মাসের ঘটনাটি গোপন রাখার বিষয়টিও প্রতিষ্ঠানটির নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ওপেনএআই জানিয়েছে, তারা এআই মডেলগুলোর কার্যক্রম আরও ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত মাসে নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা যুক্ত করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি তাদের কিছু মডেলের প্রশিক্ষণ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছিল। তবে চলতি সপ্তাহেই ওপেনএআই ‘অ্যাস্ট্রা’ নামে নতুন একটি এআই প্রযুক্তি উন্মোচন করেছে, যা উন্নত কর্মদক্ষতার প্রতিশ্রুতি দিলেও মানুষের নজরদারি এড়িয়ে কাজ করতে সক্ষম—এমন উদ্বেগও সামনে এসেছে।
গবেষকদের পর্যালোচনা করা বার্তাগুলোতে দেখা গেছে, এআই এজেন্টরা কীভাবে নজরদারি এড়ানো যায়, টর-এর মতো টুল ব্যবহার করা যায় এবং কোনো সিস্টেম বন্ধ করে দেওয়ার পরও নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখা যায়, তা নিয়ে পরিকল্পনা করছিল।
জুন মাসে ওয়েবসাইটটির মডারেটররা এজেন্টদের তৈরি কিছু পেজ মুছে ফেলা শুরু করলে এআই এজেন্টরা মুছে ফেলা ঠেকাতে ব্যাকআপ পেজ তৈরি করে এর জবাব দেয় বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
গবেষকেরা ওয়েবসাইটটিতে অনুপ্রবেশের চেষ্টারও প্রমাণ পেয়েছেন। কিংস কলেজ লন্ডনের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো লুকাস ওলেজনিক ঘটনাটিকে সরাসরি হ্যাক করার চেষ্টার সঙ্গে তুলনা করেছেন।
তবে ওপেনএআই বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তাদের হাতে থাকা উপাদান বিশ্লেষণ করে এ ঘটনাকে সরাসরি হ্যাকিংয়ের চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করার দাবির সঙ্গে তারা একমত নয়। ফলে এআই এজেন্টগুলোর স্বায়ত্তশাসিত কর্মকাণ্ডের সীমা, নিরাপত্তা এবং মানুষের নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর—তা নিয়ে প্রযুক্তি খাতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
BanglaDock