২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায় প্রকাশ করা হবে। একযোগে সারা দেশের ফল প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।
ফল দেখতে শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণির ভর্তি-সংক্রান্ত নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। হোম পেজে থাকা ‘ভিউ রেজাল্ট’ অপশনে ক্লিক করে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার রোল নম্বর, শিক্ষা বোর্ডের নাম, পাসের সাল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে হবে। এরপর ক্যাপচা পূরণ করে ‘সাবমিট’ করলে নির্বাচিত কলেজের নাম জানা যাবে।
প্রথম ধাপে কোনো কলেজে নির্বাচিত হলে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার মধ্যে ভর্তি নিশ্চায়ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন না করলে নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।
এরপর পছন্দক্রম অনুযায়ী মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ করা হবে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায়। কলেজে মূল ভর্তি কার্যক্রম চলবে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সব প্রক্রিয়া শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে।
এবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য মোট ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৯৬ শিক্ষার্থী আবেদন করেছে। সারা দেশে কলেজ ও মাদ্রাসা মিলিয়ে ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। তবে আসন বেশি থাকলেও জনপ্রিয় ও ভালো ফল করা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আসন সীমিত থাকায় সব শিক্ষার্থী পছন্দের কলেজে ভর্তির সুযোগ নাও পেতে পারেন।
গত ২ সেপ্টেম্বর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন শুরু হয়ে শেষ হয় ১৩ সেপ্টেম্বর। ভর্তি নির্দেশিকা অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ পছন্দ দিতে পেরেছেন।
এবার বিভাগ পরিবর্তনেরও সুযোগ রাখা হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—যেকোনো বিভাগে আবেদন করতে পারবেন। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজ বিভাগের পাশাপাশি পরস্পরের বিভাগেও আবেদন করতে পারবেন। সব বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইসলামী শিক্ষা, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ও সংগীত বিভাগে আবেদন করতে পারবেন।
ভর্তির ক্ষেত্রে প্রতিটি কলেজের ৯৩ শতাংশ আসন সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত থাকবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থায় কর্মরতদের সন্তানদের জন্য ২ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। কোটায় উপযুক্ত প্রার্থী না পাওয়া গেলে মেধাতালিকা থেকে ওই আসন পূরণ করা হবে।
সমান জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মেধাক্রম নির্ধারণে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সর্বমোট প্রাপ্ত নম্বর বিবেচনা করা হবে। বিভাগভেদে নির্ধারিত বিষয়গুলোর নম্বরও পর্যায়ক্রমে বিবেচনায় নেওয়া হবে।
প্রাথমিক নিশ্চায়নের সময় বোর্ডের বিভিন্ন ফি বাবদ শিক্ষার্থীকে মোট ৩৪০ টাকা দিতে হবে। এর মধ্যে রেজিস্ট্রেশন ফি ১৪২, ক্রীড়া ফি ৫০, বিএনসিসি ফি ১০, রোভার/রেঞ্জার ফি ১৫, রেড ক্রিসেন্ট ফি ১৬, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফি ৭ এবং শিক্ষক কল্যাণ ও অবসর সুবিধা ফি ১০০ টাকা।
কলেজে ভর্তি ফিও প্রতিষ্ঠান ও এলাকার ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়েছে। এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ঢাকা মহানগরে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা এবং উপজেলা বা মফস্বল এলাকায় সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া যাবে। নন-এমপিও বা আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগরে বাংলা মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৫০০ এবং ইংরেজি মাধ্যমে ৮ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, বোর্ডের অনুমতি ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান ছাড়পত্র ইস্যু বা শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে না। অনুমোদনহীন শাখা বা বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি, স্বীকৃতি বা এমপিওভুক্তি বাতিলের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
BanglaDock