কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফেসবুকে পরিচিত ‘রাজু’ নামের এক যুবকের সঙ্গে তার সখ্যতার তথ্য সামনে এসেছে। রাজু চৌধুরী (২০) কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলের কর্মচারী। ফেসবুকে পরিচয়ের ১৭ দিনের মাথায় তার ডাকে সাড়া দিয়ে তাজমিন কক্সবাজারে গিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, হত্যাকাণ্ডে রাজুর সম্পৃক্ততার তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
কক্সবাজারের একটি ট্রাভেল এজেন্সির কর্মী আবদুল্লাহ জানান, গত ৬ অক্টোবর রাতে তাজমিন ও রাজু তাঁদের কাউন্টার থেকে বাসের টিকিট কাটেন। পরদিন দুপুরে আইকনিক এক্সপ্রেসের বাসটি কুমিল্লার উদ্দেশে কক্সবাজার ছাড়ে। রাতে পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকায় পৌঁছে তাজমিন বাড়ি ফেরার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে লালমাইয়ের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন। বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তাজমিনের কক্সবাজার যাত্রা ও পরিচিতজনদের ভূমিকা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও সম্পৃক্ততার তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
তাজমিনের মা কেয়া খাতুন জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। তখন তাজমিন জানিয়েছিল, সে এক বান্ধবীর সঙ্গে আছে। মেয়েকে আনতে বান্ধবীর বাড়িতে যাওয়ার কথা ভাবলেও তাজমিন তার নাম ও পরিবারের পরিচয় জানায়নি।
মেয়ের বন্ধুত্ব ও চলাফেরা নিয়ে আগে থেকেই উদ্বিগ্ন ছিলেন বলে জানান কেয়া খাতুন। সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কায় প্রায় ছয় মাস মেয়েকে স্কুলে যেতে দেননি তিনি। তাজমিনের শিক্ষক সাদ বিন এরশাদ বলেন, মেয়েটি চঞ্চল স্বভাবের ছিল এবং মা অসুস্থ থাকলে যমজ ছোট ভাইদের দেখাশোনা করত।
BanglaDock