`
ঢাকা | বাংলাব্দ
COX'S BAZAR WEATHER

কক্সবাজারের হোটেলে ‘রাজুর স্ত্রী’ পরিচয়ে ছিলেন তাজমিন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 11, 2026 ইং
কক্সবাজারের হোটেলে ‘রাজুর স্ত্রী’ পরিচয়ে ছিলেন তাজমিন ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত
ad728

কুমিল্লায় ধর্ষণের পর হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের কক্সবাজার সফর ও শেষ যাত্রাপথ নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারের কলাতলীর একটি আবাসিক হোটেলে ‘রাজুর স্ত্রী তানজু আক্তার’ পরিচয়ে অবস্থান করেছিলেন ১৫ বছর বয়সী তাজমিন। হোটেলের রেজিস্টারে তাঁর বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়েছিল।


হোটেলের নথি ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুর সঙ্গে হোটেলটির ৩০২ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন তাজমিন। পরদিন ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তাঁরা হোটেল ছেড়ে যান। হোটেলের নথিতে রাজুর ঠিকানা বান্দরবানের লামা এবং বাবার নাম মনির আহমদ উল্লেখ ছিল।


অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে বার্তা আদান-প্রদান এবং রিলসের মাধ্যমে রাজুর সঙ্গে তাজমিনের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তাঁদের পরিচয়ের সময়কাল নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। রাজুর এক সহকর্মীর দাবি, প্রায় ১৭ দিন আগে তাঁদের পরিচয় হয়েছিল। অন্য একটি সূত্রের ভাষ্য, পরিচয় প্রায় পাঁচ মাসের।


রাজু প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। তাজমিনকে বাড়ি ফেরার জন্য তিনি ৯০০ টাকা দিয়ে বাসের টিকিট কিনে দিয়েছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের খবর জানার পর রাজু নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। বর্তমানে তিনি ছুটিতে রয়েছেন এবং তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।


অনুসন্ধান অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির পর বাড়ি ছাড়েন তাজমিন। প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যান তিনি। পরে রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে কক্সবাজার যাওয়ার জন্য বিকাশে ৫০০ টাকা পাঠান রাজু।


৬ অক্টোবর রাতে তাজমিন ও রাজু কক্সবাজারের একটি বাস কাউন্টারে গিয়ে পরদিনের বাসের টিকিট সংগ্রহ করেন। ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাজমিনকে বাসে তুলে দেওয়া হয়। কুমিল্লায় ফেরার পথে অটোরিকশায় ওঠার সময়ও রাজুর সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হচ্ছিল বলে রাজুর এক সহকর্মী জানিয়েছেন। তবে রাত দেড়টার দিকে তাজমিনের ফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তাঁদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।


পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর রাত পৌনে ১২টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডের হোটেল নূরজাহানের সামনে বাস থেকে নামেন তাজমিন। পরে রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. সুমন মিয়ার (৩৫) গাড়িতে ওঠেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, চালক তাঁকে গন্তব্যে না নিয়ে লালমাই উপজেলার ভোরালজগতপুর উত্তরপাড়ার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাঁকে হত্যা করা হয়।


পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে ওই এলাকার একটি ধানখেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেখানো স্থান থেকে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


তাজমিনের মা কেয়া খাতুন জানান, মেয়ের সঙ্গে বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁর শেষ কথা হয়েছিল। তাজমিন কোথায় আছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু না জানিয়ে এক বান্ধবীর বাসায় থাকার কথা বলেছিল। মেয়েকে আনতে চাইলেও নিজের অবস্থান জানায়নি সে।


লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্ত অটোরিকশাচালক সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। উদ্ধার করা মোবাইল ফোনের কলতালিকা ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ পর্যালোচনা করে অধিকতর তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হলে পুরো ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : BanglaDock

কমেন্ট বক্স
টেকনাফে ৫ কোটি টাকার ক্রিস্টাল মেথ জব্দ

টেকনাফে ৫ কোটি টাকার ক্রিস্টাল মেথ জব্দ