শতবর্ষী গর্জনগাছ, পাহাড়ের চূড়া থেকে নাফ নদী ও মিয়ানমার সীমান্তের মনোরম দৃশ্য—প্রকৃতির এমন সৌন্দর্য ঘিরে একসময় পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকত কক্সবাজারের টেকনাফের দমদমিয়া নেচার পার্ক। তবে অপহরণ-ডাকাতির আতঙ্ক, অবকাঠামোর অবনতি ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় এখন অনেকটাই পর্যটকশূন্য পার্কটি। এতে পর্যটনের সম্ভাবনার পাশাপাশি সংকুচিত হয়েছে স্থানীয়দের আয়-রোজগারের সুযোগও।
টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের দমদমিয়া এলাকায় অবস্থিত পার্কটিতে রয়েছে শতবর্ষী গর্জনগাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ ও গাছপালা। পাহাড়ের চূড়া থেকে দেখা যায় নাফ নদী ও মিয়ানমার সীমান্ত। একসময় বন্যহাতিসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী দেখার সুযোগ এবং পাহাড়ের ভেতরে নির্দিষ্ট পথে ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা এখানে আসতেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমানে অপহরণ, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের আশঙ্কায় পর্যটকেরা পার্কে যেতে আগ্রহী নন। ভেঙে পড়েছে কাঁটাতারের বেড়ার বিভিন্ন অংশ, জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে অবকাঠামো, আর কিছু ভবন পড়ে আছে পরিত্যক্ত অবস্থায়। তবে এসব অপরাধের সাম্প্রতিক ঘটনা বা পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।
পার্কটির পর্যটন কার্যক্রম ঘিরে একসময় স্থানীয় দোকানিদের পাশাপাশি পর্যটক গাইডদেরও কর্মসংস্থান ছিল। পর্যটকদের পথ দেখানো ও ভ্রমণে সহায়তা করে আয় করতেন অনেকে। স্থানীয় গাইড ইদ্রিস আলী খানের ভাষ্য, তিন-চার বছর আগেও ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটকেরা পার্কটি দেখতে আসার জন্য তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। এখন সেই যোগাযোগ ও পর্যটকদের আনাগোনা অনেক কমে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আমান উল্লাহ বলেন, একসময় পর্যটকদের উপস্থিতিতে এলাকার দোকানপাট জমজমাট থাকত। এখন পর্যটক কমে যাওয়ায় স্থানীয়দের ব্যবসা ও জীবিকার সুযোগও কমেছে। তাঁর অভিযোগ, পার্কের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও অবকাঠামোর অবনতি পর্যটকদের আগ্রহ কমার অন্যতম কারণ।
কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আগে সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে পার্কটি পরিচালিত হতো। তবে ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন কারণে কমিটির অনেক সদস্য চলে যাওয়ায় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইকো-ট্যুরিজম ব্যবস্থাপনার জন্য প্রকল্প তৈরির কাজ চলছে।
বন বিভাগের এই কর্মকর্তা বলেন, পার্কটি পুরোপুরি অনিরাপদ নয়। পর্যটকেরা দলবদ্ধভাবে ভ্রমণে এলে বন বিভাগের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা দেওয়া হবে। পার্কটির নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে উপজেলা প্রশাসন সহযোগিতা করতেও প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরী।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নিরাপত্তা জোরদার, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং পর্যটকদের আকৃষ্ট করার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে দমদমিয়া নেচার পার্ক আবারও প্রাণ ফিরে পাবে।
BanglaDock