কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়েছে। প্রস্তাবিত সিটি কর্পোরেশনের আয়তন হবে প্রায় ১৬৯ দশমিক ৬৪ বর্গকিলোমিটার। এতে বর্তমান কক্সবাজার পৌরসভার পাশাপাশি ঝিলংজা, খুরুশকুল, পিএমখালী, দক্ষিণ মিঠাছড়ি ও খুনিয়াপালং ইউনিয়নের নির্দিষ্ট এলাকা যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব এলাকার মোট জনসংখ্যা প্রায় ১০ লাখ ৮০ হাজার বলে সংশ্লিষ্ট তথ্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তিতে পৌরসভার ৩২ দশমিক ৯০, ঝিলংজার ২০, খুরুশকুলের ২৩ দশমিক ৬৭, পিএমখালীর ২৭ দশমিক ২৫, দক্ষিণ মিঠাছড়ির ১৮ এবং খুনিয়াপালংয়ের ৪৭ দশমিক ৮২ বর্গকিলোমিটার এলাকা প্রস্তাবিত সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) প্রতিষ্ঠা বিধিমালা, ২০১০-এর বিধি-৫ অনুযায়ী এ গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত সীমানা নিয়ে কারও আপত্তি বা মতামত থাকলে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে জানানো যাবে। নির্ধারিত সময়ের পর কোনো আপত্তি গ্রহণ করা হবে না।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, সিটি কর্পোরেশনের সীমানা নির্ধারণে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থ, আইন-বিধিমালা ও বাস্তবতা বিবেচনা করা হবে। নাগরিকদের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে সরকারের কাছে তুলে ধরা হবে। সিটি কর্পোরেশনের আওতায় নতুন এলাকা যুক্ত হলে রাস্তা, অবকাঠামো ও নাগরিক সেবার দায়িত্ব বাড়ার পাশাপাশি হোল্ডিং ট্যাক্স, নির্ধারিত ফি ও অন্যান্য রাজস্ব প্রদানের বিষয়ও আসবে বলে জানান তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার দাবি রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সিটি কর্পোরেশন হলে পরিকল্পিত নগরায়ন, সড়ক যোগাযোগ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পানি সরবরাহসহ নাগরিক সেবার পরিধি বাড়তে পারে। পাশাপাশি পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের বিকাশেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
তবে নাগরিকদের একাংশের আশঙ্কা, সিটি কর্পোরেশন হলে কর, ফি ও অন্যান্য রাজস্বের চাপ বাড়তে পারে। তাদের মতে, প্রথমে বিদ্যমান পৌরসভার নাগরিক সেবা ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা এবং কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাস্টারপ্ল্যান দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি। একই সঙ্গে পৌরসভা ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মধ্যে দায়িত্বের সমন্বয় প্রয়োজন।
কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, আলোচনা, যুক্তি-তর্ক ও সংশ্লিষ্ট সবার মতামতের ভিত্তিতেই সিটি কর্পোরেশনের সীমানা নির্ধারণ করা উচিত। বিশেষ করে কৃষক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আবাদযোগ্য জমি, লবণ মাঠ, মৎস্যঘেরসহ জীবিকা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
BanglaDock