`
ঢাকা | বাংলাব্দ
COX'S BAZAR WEATHER

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বাড়ছে জটিলতা, মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনায় নতুন সমীকরণ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 26, 2026 ইং
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বাড়ছে জটিলতা, মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনায় নতুন সমীকরণ ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত
ad728

মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত, রাখাইনে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আগের চেয়ে আরও জটিল হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, এখন শুধু মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে এই সংকটের টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।


২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানের পর ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। একই সময়ে রাখাইনে সংঘাত অব্যাহত থাকায় নতুন করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে প্রবেশের আশঙ্কাও রয়েছে।


নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্সের পরিচালক অধ্যাপক তৌফিক এম হক বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পরিস্থিতি ২০১৭-১৮ সালের তুলনায় এখন অনেক বেশি জটিল। তাঁর মতে, মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি রাখাইনের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণকারী আরাকান আর্মিকেও আলোচনার আওতায় আনতে হবে।


তিনি বলেন, বাংলাদেশ মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছালেও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য আরাকান আর্মির সঙ্গে সম্পৃক্ততা প্রয়োজন হতে পারে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ মূলত একটি পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে নেপিদো ও আরাকান—দুই পক্ষকেই বিবেচনায় নিতে হবে।


২০১৭ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার প্রত্যাবাসন নিয়ে সমঝোতা করলেও পরবর্তী সময়ে নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা, সম্পত্তি ও অধিকার নিশ্চিত না হওয়ায় প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ ব্যর্থ হয়। ২০১৯ সালের দ্বিতীয় প্রচেষ্টাও সফল হয়নি। পরে চীন ত্রিপক্ষীয় প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যুক্ত হলেও মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।


২০২১ সালে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর দেশটির সংঘাত আরও তীব্র হয়। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে লড়াই বাড়তে থাকায় সেখানকার পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে।


গত ১৫ আগস্ট মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশের দেওয়া ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গার তালিকা থেকে চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫২৫ জনের পরিচয় যাচাই করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করার দাবি করা হয়।


তবে নিরাপদ ও অনুকূল পরিবেশ তৈরি না করে এই যাচাই প্রক্রিয়ার কোনো বাস্তব মূল্য নেই বলে মন্তব্য করেছেন মিয়ানমারে নিযুক্ত সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সুফিউর রহমান। তাঁর মতে, রাখাইনের বেশিরভাগ এলাকার নিয়ন্ত্রণ যখন আরাকান আর্মির হাতে, তখন শুধু সামরিক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই প্রক্রিয়া পরিচালনা করা অর্থবহ নয়।


আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আগের মতো মনোযোগ নেই বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। গাজা, ইউক্রেন, সিরিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সংঘাত এবং বৃহৎ শক্তিগুলোর পরিবর্তিত অগ্রাধিকারের কারণে রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও মনোযোগ কমেছে।


এদিকে ভারত ও চীনও রাখাইনে নিজেদের কৌশলগত স্বার্থে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। ভারতের কালাদান প্রকল্প এবং চীনের জ্বালানি ও অবকাঠামোগত স্বার্থ রাখাইন পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।


বিশ্লেষকদের মতে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে নতুন করে কূটনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। ভারত, চীন ও আসিয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার পাশাপাশি মিয়ানমারের বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে।


তবে আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে, যাতে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে না পড়ে।


সাবেক রাষ্ট্রদূত সুফিউর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান শুধু প্রত্যাবাসনের তালিকা তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব, অধিকার, জীবিকা, সম্পত্তি ফেরত, ক্ষতিপূরণ এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক পুনঃএকত্রীকরণের নিশ্চয়তা দিতে হবে।


অধ্যাপক তৌফিক এম হকের মতে, রোহিঙ্গা সংকট শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়। তবে বাস্তবে এর সবচেয়ে বড় বোঝা বাংলাদেশকেই বহন করতে হচ্ছে। বর্তমান জটিল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে না পারলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন দীর্ঘদিন কেবল কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতি হয়েই থেকে যেতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : BanglaDock

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মহেশখালীতে চীনা কোম্পানির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে নী

মহেশখালীতে চীনা কোম্পানির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে নী