`
ঢাকা | বাংলাব্দ
COX'S BAZAR WEATHER

কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটে দ্বিতীয় দিনে ৩ জাহাজে যাচ্ছেন ১,৫৫৪ পর্যটক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 6, 2026 ইং
কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটে দ্বিতীয় দিনে ৩ জাহাজে যাচ্ছেন ১,৫৫৪ পর্যটক ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত
ad728

অনুমোদন জটিলতা কাটিয়ে চলতি মৌসুমে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটে দ্বিতীয় দিনে তিনটি জাহাজ চলাচল শুরু করেছে। শুক্রবার সকালে এমভি বারো আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফে করে পর্যটকেরা সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করেন। জাহাজ তিনটিতে মোট ১ হাজার ৫৫৪ জন পর্যটক রয়েছেন।


শুক্রবার সকালে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো ছেড়ে যায় এমভি কর্ণফুলী ও এমভি টেকনাফ। এর আগে বৃহস্পতিবার ৮৩৬ জন পর্যটক নিয়ে যাত্রা করা এমভি বারো আউলিয়া রাতেই কক্সবাজার ফিরে আসে। শুক্রবার জাহাজটিতে ৬১৯ জন, এমভি কর্ণফুলীতে ৩৮৭ জন এবং এমভি টেকনাফে ৫৪৮ জন পর্যটক রয়েছেন। দুপুরের মধ্যে তাঁদের দ্বীপে পৌঁছানোর কথা।


সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, আগামী বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত অনুমোদিত তিনটি জাহাজ নিয়মিত চলাচল করবে। এসব জাহাজের সম্মিলিত ধারণক্ষমতা ২ হাজার ৩০০ জন। এ বছর দৈনিক সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক যাওয়ার অনুমতি থাকায় জাহাজের সংখ্যা বাড়তে পারে।


সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সুযোগ চালু হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রশাসনিক অনুমোদন, নৌযান চলাচলের ছাড়পত্র এবং পরিবেশগত শর্ত পূরণ নিয়ে জটিলতায় নির্ধারিত সময়ে জাহাজ চলাচল শুরু করা যায়নি।


নুনিয়ারছড়া ঘাটে পর্যটকদের নিরাপত্তায় জেলা প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিএ, পুলিশ, কোস্টগার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা দেখা গেছে। সমুদ্রপথে দ্বীপে যাওয়ার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন পর্যটকেরা। তাঁরা সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার কথা জানিয়েছেন। চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক আল মাহমুদ বলেন, সেন্টমার্টিন দেশের সম্পদ। দ্বীপের পরিবেশ রক্ষায় সেখানে ভ্রমণকারীদের প্রত্যেকেরই ভূমিকা রাখা উচিত।


তবে টিকিটের দাম বেশি হওয়ায় হতাশা জানিয়েছেন কয়েকজন পর্যটক। ঢাকার উত্তরার বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, টিকিটের মূল্য কিছুটা বেশি মনে হয়েছে। ভ্রমণপিপাসুদের সামর্থ্যের কথা বিবেচনা করে ভাড়া নির্ধারণ করা হলে ভালো হতো।


এবার সেন্টমার্টিন ভ্রমণে পর্যটকদের জন্য কয়েকটি শর্ত বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। পাশাপাশি সংগ্রহ করতে হবে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিট। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্বীপে পর্যটকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, যাতায়াতের তথ্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।


পর্যটকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও দ্বীপের ভঙ্গুর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় একাধিক বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে। রাতে সমুদ্রসৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টি আয়োজন নিষিদ্ধ। কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও কেনাবেচাও করা যাবে না।


এ ছাড়া সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস ও শৈবালসহ দ্বীপের কোনো প্রাকৃতিক সম্পদ বা জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না। সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচলও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।


পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, সেন্টমার্টিনের মতো ছোট ও সংবেদনশীল দ্বীপে পর্যটকের চাপ নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটকের সংখ্যা বাড়লে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানির ব্যবহার, জ্বালানি, শব্দদূষণ ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপর চাপ বাড়তে পারে। তাই পর্যটকদের জন্য নিয়ম নির্ধারণের পাশাপাশি সেগুলোর বাস্তবায়ন ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করাও জরুরি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : BanglaDock

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
প্রায় ১৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে হচ্ছে কক্সবাজার সিটি কর্প

প্রায় ১৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে হচ্ছে কক্সবাজার সিটি কর্প