বিয়ে শুধু দুজন মানুষের বন্ধন নয়, বরং ভালোবাসা, প্রশান্তি ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধের মাধ্যমে পরিবার গড়ে তোলার একটি বৈধ ও পবিত্র মাধ্যম। তবে সামাজিক বাধা, আর্থিক অসচ্ছলতা, অতিরিক্ত প্রত্যাশা ও উপযুক্ত জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়ার জটিলতায় অনেকের বিয়ে বিলম্বিত হয়। এ সময় হতাশ না হয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করার পাশাপাশি বাস্তবসম্মত উপায়ে জীবনসঙ্গী খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া উচিত।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা আর-রুম, আয়াত: ২১)
রাসুলুল্লাহ (সা.) সামর্থ্যবান যুবকদের বিয়ের প্রতি উৎসাহিত করেছেন। সহিহ বুখারির ৫০৬৬ নম্বর হাদিসে বিয়েকে দৃষ্টি সংযত রাখা ও পবিত্রতা রক্ষার সহায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিয়ের জন্য আল্লাহর সাহায্য কামনায় তিনটি আমল করা যেতে পারে।
১. বেশি বেশি দোয়া করা
জীবনের যেকোনো প্রয়োজন ও সংকটে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া মুমিনের অন্যতম আমল। বিয়ের জন্যও আন্তরিকভাবে দোয়া করে একজন নেককার, উত্তম চরিত্রের ও দ্বীনদার জীবনসঙ্গী চাওয়া যায়। পাশাপাশি নিজের চরিত্র সংশোধন, হালাল উপার্জনের ব্যবস্থা এবং বিয়ের পথ সহজ করার জন্য প্রার্থনা করা উচিত।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যখন আমার বান্দারা তোমার কাছে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, তখন (বলে দাও) আমি তো নিকটেই। আহ্বানকারী যখন আমাকে আহ্বান করে, আমি তার ডাকে সাড়া দিই।’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৬)
দোয়ার পাশাপাশি পরিবারকে সম্পৃক্ত করে বৈধ উপায়ে পাত্র-পাত্রী খোঁজা এবং অযৌক্তিক সামাজিক বাধা কমানোর উদ্যোগ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
২. কোরআনের দোয়া পড়া
নেককার জীবনসঙ্গী ও উত্তম পরিবার লাভের জন্য পবিত্র কোরআনের একটি দোয়া পড়া যেতে পারে। দোয়াটি সুরা আল-ফুরকানের ৭৪ নম্বর আয়াতে রয়েছে।
আরবি: رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا
উচ্চারণ: রব্বানা হাব লানা মিন আযওয়াজিনা ওয়া যুররিয়্যাতিনা কুররাতা আ‘ইউনিন, ওয়াজ‘আলনা লিল মুত্তাকিনা ইমামা।
অর্থ: ‘হে আমাদের রব! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের পক্ষ থেকে আমাদের চোখের প্রশান্তি দান করুন এবং আমাদের মুত্তাকিদের জন্য আদর্শ বানিয়ে দিন।’
এই দোয়ায় শুধু জীবনসঙ্গী পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে চলতে সহায়ক একটি সুন্দর পরিবার গঠনের প্রার্থনাও রয়েছে। ফরজ নামাজের পর, নফল ইবাদতের সময় কিংবা অন্য যেকোনো সময়ে দোয়াটি পড়া যায়। তবে বিয়ের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যায় বা নির্দিষ্ট নিয়মে এটি পড়তেই হবে—এমন সহিহ প্রমাণ নেই।
৩. নফল নামাজ আদায় করা
জীবনের কঠিন সময়ে নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া গুরুত্বপূর্ণ আমল। বিয়ের বিষয়ে দুশ্চিন্তা, অনিশ্চয়তা কিংবা প্রতিবন্ধকতা থাকলে নফল নামাজ আদায় করে নিজের প্রয়োজনের কথা আল্লাহর কাছে তুলে ধরা যায়।
হজরত হুযাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে কোনো কঠিন বিষয় উপস্থিত হলে তিনি নামাজ আদায় করতেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৩১৯)
তবে মনে রাখতে হবে, নির্দিষ্ট কোনো আমল করলেই দ্রুত বিয়ে হবে—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না। দোয়া ও ইবাদতের পাশাপাশি বৈধ উপায়ে জীবনসঙ্গী খোঁজা, নিজের প্রস্তুতি নেওয়া এবং আল্লাহর ফয়সালার ওপর আস্থা রাখাই গুরুত্বপূর্ণ।
BanglaDock