পুরুষের বয়স বাড়ার সঙ্গে শারীরিক শক্তি ও যৌন সক্ষমতায় কিছুটা পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। তবে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই এ ধরনের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। ইরেকটাইল ডিসফাংশন বা যৌন সক্ষমতার ঘাটতিকে অনেক সময় হৃদ্রোগ ও রক্তনালির স্বাস্থ্যের সঙ্গেও সম্পর্কিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্তনালির রোগ, স্নায়ুর সমস্যা, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, প্রোস্টেটের অস্ত্রোপচার, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, বিষণ্ণতা ও কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।
নিয়মিত শরীরচর্চা
প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে অতিরিক্ত ওজনের মধ্যবয়সী পুরুষদের জন্য নিয়মিত মাঝারি মাত্রার শরীরচর্চা উপকারী হতে পারে।
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন
অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত মাংস, ফাস্টফুড ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট কমিয়ে তাজা ফলমূল, শাকসবজি, পূর্ণ শস্য ও ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির স্বাস্থ্য ভালো রাখার মাধ্যমে এসব খাবার শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।
রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ
উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে অতিরিক্ত শর্করা, ক্ষতিকর কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা পরীক্ষা করা জরুরি।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
অতিরিক্ত ওজন হরমোনের ভারসাম্য ও রক্তনালির স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর ওজন ও কোমরের মাপ বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
কেগেল ব্যায়াম
পেলভিক ফ্লোরের পেশি শক্তিশালী করতে কেগেল ব্যায়াম করা যেতে পারে। কিছু গবেষণায় নিয়মিত কেগেল ব্যায়ামের সঙ্গে যৌন সক্ষমতার উন্নতির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
ইরেকটাইল ডিসফাংশন কখনও কখনও ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ বা রক্তনালির সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। তাই দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে নিবন্ধিত চিকিৎসক বা ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বা যৌনক্ষমতা বৃদ্ধির পণ্য ব্যবহার না করাই নিরাপদ।
BanglaDock