চট্টগ্রামে একসময় রংমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করা মো. মোবারক ওরফে ‘গলাকাটা মোবারক’ এখন পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী একাধিক হত্যা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র হামলার ঘটনায় জড়িত ভয়ংকর সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকার পর গত বুধবার ফটিকছড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন থানা ও পুলিশ স্থাপনা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের একটি অংশ অপরাধীদের হাতে চলে যায়। গ্রেপ্তারের সময় মোবারকের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি পিস্তলও কোতোয়ালি থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রাউজানের যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী হত্যা, চট্টগ্রাম নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় গুলি ও হত্যাকাণ্ড এবং ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবির ঘটনায় মোবারকের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজে তাকে অস্ত্র হাতে দেখা গেছে এবং দুই হাতে পিস্তল চালানো তার বিশেষ দক্ষতা ছিল।

গ্রেফতারের পর মোবারককে (মাঝে) আদালতে তোলা হচ্ছে, ছবি: সংগৃহীত।
ফটিকছড়ির কাঞ্চননগরের বাসিন্দা মোবারকের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা খুবই সীমিত। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি রংমিস্ত্রির সহকারী ছিলেন। ২০১৪ সালে একটি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের পর তিনি ‘গলাকাটা মোবারক’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অপরাধ সংঘটনের পর মোবারক ফটিকছড়ি ও রাউজানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আত্মগোপন করতেন। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি সব সময় অস্ত্র সঙ্গে রাখতেন বলেও পুলিশের দাবি। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি এসএমজি উদ্ধারে অভিযান চলছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চট্টগ্রামে লুট হওয়া শত শত অস্ত্রের একটি অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আশঙ্কা, এসব অস্ত্র অপরাধীদের হাতে থেকে বিভিন্ন অপরাধে ব্যবহৃত হচ্ছে। মোবারককে গ্রেপ্তারের ঘটনা সেই উদ্বেগকে নতুন করে সামনে এনেছে।
BanglaDock