`
ঢাকা | বাংলাব্দ
COX'S BAZAR WEATHER

ছয় দিন সাগরে, শেষ দিনে ধরা পড়লো ২৬ লাখ টাকার ইলিশ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 15, 2026 ইং
ছয় দিন সাগরে, শেষ দিনে ধরা পড়লো ২৬ লাখ টাকার ইলিশ ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত
ad728

টানা ছয় দিন সাগরে মাছের দেখা না পেলেও শেষ দিনে জালে উঠে আসে ২ হাজার ২০০ ইলিশ। কক্সবাজারের নুনিয়াছটা ঘাটে ফিরে আসা এফভি কুলসুমা নামের একটি ট্রলারের জেলেদের জালে ধরা পড়া এসব ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২৬ লাখ ৪০ হাজার টাকায়। প্রতিটি ইলিশের ওজন ছিল প্রায় ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম।


সোমবার সকাল আটটার দিকে সাত দিন সাগরে কাটিয়ে নুনিয়াছটা ঘাটে ফেরে এফভি কুলসুমা। পরে ট্রলার থেকে ইলিশ, পোপা, মাইট্যা, রুপচাঁদাসহ বিভিন্ন মাছ ফিশারিঘাটের পাইকারি মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে নেওয়া হয়। ব্যবসায়ীরা ২ হাজার ২০০ ইলিশ কিনে নেওয়ার পর বরফমিশ্রিত কার্টনে ভরে ট্রাকে করে ঢাকায় পাঠান।


ট্রলারটির মালিক আমান উল্লাহ বলেন, গত তিন মাস ধরে কক্সবাজারের জেলেরা তেমন ইলিশের দেখা পাচ্ছেন না। বঙ্গোপসাগরে ঘন ঘন নিম্নচাপ ও লঘুচাপের কারণে গত দুই মাস সাগরে নামাও সম্ভব হয়নি। তবে গত পাঁচ-ছয় দিন ধরে কিছু ট্রলারে ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়ছে। মহেশখালীর তাজিয়াকাটা থেকে পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে জাল ফেলেই তাঁদের ট্রলারে এত ইলিশ ধরা পড়ে।


ট্রলারের ১২ জন জেলে জানান, ইলিশ বিক্রির টাকা থেকে খরচ বাদ দিয়ে প্রত্যেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা করে পাবেন। জেলে মো. আলমগীর বলেন, টানা পাঁচ দিন বিভিন্ন এলাকায় জাল ফেলেও ইলিশের দেখা মেলেনি। ষষ্ঠ দিনে মহেশখালী উপকূলে জাল ফেললে একসঙ্গে ২ হাজার ২০০ ইলিশ ধরা পড়ে। তাঁদের কাছে এই মাছ ভাগ্য বদলের মতো।


ফিশারিঘাটে গতকাল ১ কেজি ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ১ হাজার ৭০০ টাকা, ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা এবং ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। জেলে ও ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, মাঝারি আকারের অধিকাংশ ইলিশের পেটে ডিম রয়েছে।


মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, গত কয়েক দিনে অন্তত ৩০০ ট্রলার ফিশারিঘাটে এসেছে। প্রতিটি ট্রলারে গড়ে ২০০ থেকে ৩০০টি ইলিশ ধরা পড়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ইলিশ ধরা পড়েছে এফভি কুলসুমায়। কক্সবাজার সামুদ্রিক মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দুই মাস জেলেরা সাগরে নামতে পারেননি। এখন পাঁচ-ছয় দিন ধরে ইলিশসহ কিছু সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়ছে।


তবে সামগ্রিকভাবে কক্সবাজারের সামুদ্রিক মাছের উৎপাদন কমছে। কক্সবাজার ফিশিংবোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, জেলার প্রায় ৬ হাজার ট্রলারের মধ্যে ৪ হাজারই ঘাটে পড়ে আছে। বাকি ২ হাজার ট্রলার সাগরে গেলেও তেমন মাছ পাচ্ছে না। সাত দিনের একটি ট্রিপে একটি ট্রলারের খরচ হয় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা, অথচ মাছ বিক্রি করে আয় হচ্ছে ১ থেকে ৩ লাখ টাকা। ফলে অনেক মালিক লোকসানে ট্রলার বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। জেলায় জেলের সংখ্যা ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি।


কক্সবাজার সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণাকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আশরাফুল হক বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রদূষণ, প্লাস্টিক ও ছেঁড়া জালের কারণে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ক্ষতিকর জালের ব্যবহার বাড়ায় মাছের ডিম ও পোনাও মারা যাচ্ছে। তাঁর মতে, সাগরে মৎস্যসম্পদের যে মজুত রয়েছে, তার তুলনায় আহরণ বেশি হওয়ায় মাছের সংকট তৈরি হচ্ছে।


কক্সবাজার মৎস্য অবতরণকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সেখানে মোট ২ হাজার ৩৯ মেট্রিক টন মাছ অবতরণ হয়। এর মধ্যে ইলিশ ছিল ৫২২ টন। অথচ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট মাছ অবতরণ হয়েছিল ৫ হাজার ৬৫৮ টন, যার মধ্যে ইলিশ ছিল ১ হাজার ৬২৮ টন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ওই কেন্দ্রে মোট মাছ অবতরণ প্রায় ৬৪ শতাংশ এবং ইলিশ প্রায় ৬৮ শতাংশ কমেছে।


জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য বলছে, গত অর্থবছরে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় ২০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি ইলিশ আহরণ হয়েছিল। কিন্তু চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই থেকে আড়াই মাসে ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশও আহরণ হয়নি। ফলে এফভি কুলসুমার এক ট্রিপে ২ হাজার ২০০ ইলিশ ধরা পড়ার ঘটনা যেমন জেলেদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে, তেমনি সামুদ্রিক মৎস্য আহরণের সামগ্রিক সংকটও স্পষ্ট করে তুলেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : BanglaDock

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
চমক রেখে আর্জেন্টিনার একাদশ ঘোষণা, সুযোগ পেলেন নিকো গঞ্জালেস

চমক রেখে আর্জেন্টিনার একাদশ ঘোষণা, সুযোগ পেলেন নিকো গঞ্জালেস