শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে কক্সবাজারে শেষ হয়েছে প্রস্তুতি। এ বছর জেলার ৩২৪টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব উদযাপিত হবে। এর মধ্যে ১৫৪টি প্রতিমাপূজার মণ্ডপ এবং ১৭০টি ঘটপূজার মণ্ডপ। গত বছরের তুলনায় এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ছয়টি।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কক্সবাজার জেলা শাখার তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসব শুরু হবে। বুধবার বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে উৎসব।
জেলায় সবচেয়ে বেশি পূজামণ্ডপ রয়েছে চকরিয়া উপজেলায়, ৭১টি। এ ছাড়া কুতুবদিয়ায় ৪৪টি, রামুতে ৩৭টি, কক্সবাজার সদর উপজেলায় ৩১টি, ঈদগাঁওয়ে ২৯টি, মহেশখালী উপজেলায় ২৮টি, কক্সবাজার পৌরসভায় ২৬টি, চকরিয়া পৌরসভায় ২৫টি, পেকুয়া ও উখিয়ায় নয়টি করে এবং মহেশখালী পৌরসভা ও টেকনাফে ছয়টি করে পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
উৎসব নির্বিঘ্ন করতে পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটিগুলো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের যাতায়াত, শৃঙ্খলা রক্ষা ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কক্সবাজার সদর উপজেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট বাপ্পি শর্মা বলেন, দুর্গোৎসব সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো কাজ করছে।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক স্বপন দাশ জানান, জেলার ৩২৪টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মণ্ডপে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের অংশগ্রহণে এবারের উৎসব সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি ও কক্সবাজারের দায়িত্বপ্রাপ্ত দোলন ধর বলেন, দুর্গোৎসব সফল করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পূজামণ্ডপ কমিটির নেতাদের সঙ্গে প্রস্তুতিমূলক সভা হয়েছে। সবার সহযোগিতা ও পারস্পরিক সম্প্রীতির মাধ্যমে উৎসব আনন্দমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা করছেন।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র দেবদূত মজুমদার জানান, দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় জেলা পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকের পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার পাশাপাশি কক্সবাজারে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
BanglaDock