কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খুনোখুনি, মাদক কারবারসহ নানা অপরাধের পাশাপাশি সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে জেলায় ৯৪টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। একই সময়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে ১২৩টি।
পুলিশের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে কক্সবাজারে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের চার হাজার ৮৯৭টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। চলতি বছরের প্রথম আট মাসেই এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৯৭১টিতে। গত বছর জেলায় ১৩৮টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল। চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত আট মাসেই হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৪টি।
চলতি বছরের আগস্ট মাসে কক্সবাজারে ছয়টি খুন, ১৫টি চুরি, ১০টি ধর্ষণ, দুটি ডাকাতি ও দুটি দস্যুতার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসেও এখন পর্যন্ত আরও তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
চুরির হিসাবেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ২০২৫ সালে জেলায় ৭৫টি সিঁধেল চুরি ও ৭৩টি অন্যান্য চুরির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত সিঁধেল চুরি হয়েছে ৫৮টি এবং অন্যান্য চুরি ৬৫টি। সব মিলিয়ে আট মাসে ১২৩টি চুরির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর বাইরে গাড়ি, গবাদিপশু ও বসতঘরে চুরির ঘটনাও রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক অপরাধের ঘটনায় থানায় মামলা কিংবা সাধারণ ডায়েরি না হওয়ায় নথিভুক্ত ঘটনার তুলনায় প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। গত কয়েক মাসে কক্সবাজার শহরে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনাও বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, কক্সবাজার দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করে। তাই সময় থাকতে অপরাধীদের লাগাম টেনে ধরা উচিত।
কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, গত এক সপ্তাহে শহরে ছিনতাই ও চুরির অভিযোগে শতাধিক কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসীও রয়েছে বলে জানান তিনি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) অহিদুর রহমান বলেন, সারা দেশে নানা ধরনের অপরাধ বেড়েছে। কক্সবাজারও এর ব্যতিক্রম নয়। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিরোধ, আধিপত্য বিস্তার, মাদক কারবার, সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধ, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সামাজিক দ্বন্দ্বসহ নানা কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটছে।
তিনি আরও জানান, এসব ঘটনায় জড়িতদের অধিকাংশকেই আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তবে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে পুলিশের নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
BanglaDock