রাঙামাটির সাজেকে দ্বিতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ শুরু হয়েছে। এতে যান চলাচল বন্ধ থাকায় লুসাই, ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা সম্প্রদায়ের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়।
সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা যৌথ বিবৃতিতে অবরোধের ঘোষণা দেন। অবরোধের কারণে সাজেক সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় রিসোর্ট, কটেজ ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও সেবা বন্ধ রেখেছে।
পরিবহন সংকটে জুমচাষিরা উৎপাদিত ফসল হাট-বাজারে নিতে পারছেন না। হাটের দিনেও স্থানীয় বাজারগুলোতে নীরবতা বিরাজ করছে। অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। দ্রুত সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অবরোধের শুরুতে বাঘাইহাটের ১০ নম্বর এলাকা, গঙ্গারাম ব্রিজ ও মাচালংয়ের ১৪ কিলোসহ বিভিন্ন স্থানে সড়কে টায়ার, বাঁশ ও গাছের গুঁড়ি জ্বালিয়ে পিকেটিং করতে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ (মূল) ও জেএসএসের সন্তু গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দফায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে এক ত্রিপুরা শিশু শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়। এরপর থেকেই এলাকায় অস্থিরতা চলছে।
এর আগে, গত ১১ অক্টোবর সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও এলাকায় সশস্ত্র সদস্যদের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়ে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করে গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন। ওই দিন বিকেলে প্রশাসন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলে কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও দাবিগুলো বাস্তবায়িত না হওয়ায় আবারও অবরোধের ডাক দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠন দুটি।
BanglaDock