কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে স্ত্রী ও দুই শিশুকন্যাসহ নিখোঁজ রয়েছেন যশোরের নাহিদুর রহমান। রিসোর্টের ২০২ নম্বর কক্ষে তাঁদের বুকিংয়ের নথি পাওয়া গেলেও পরিবারের সদস্যদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। স্বজনদের আশঙ্কা, আগুনে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তাঁরা থাকতে পারেন।
রিসোর্টের বুকিং নথি অনুযায়ী, ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত দুই রাতের জন্য নাহিদুর রহমানের নামে সুপার ডিলাক্স কক্ষটি বুক করা হয়েছিল। ১৮ অক্টোবর দুপুর ১টায় তাঁদের রিসোর্ট ছাড়ার কথা ছিল। তবে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নাহিদুর, তাঁর স্ত্রী আফসানা এবং সাত বছর বয়সী মেয়ে রোবাইনা ও তিন বছর বয়সী মেয়ে সুনাইনাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
নাহিদুর যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে। তিনি ঢাকার শ্যামলীতে গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীও ছিলেন তিনি।
নাহিদুরের বড় ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্স জানান, তাঁর ভাই শুক্রবার কক্সবাজার যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। শনিবার সকালে রিসোর্টে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর নাহিদুরকে ফোন করা হলেও তাঁর বা পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এরপর থেকে স্বজনেরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করছেন।
নাহিদুরের কর্মস্থল গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা রকিবুজ্জামান জানান, তিনি চীনে অবস্থান করছেন। অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর তিনিসহ প্রতিষ্ঠানের অন্যরাও নাহিদুরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন, কিন্তু সফল হননি।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানান, নাহিদুর নিখোঁজ রয়েছেন বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। মরদেহ শনাক্ত করতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে শৌচাগার থেকে আরও চারজনের মরদেহ পাওয়া যায়। মরদেহগুলো মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় চেহারা দেখে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। সেগুলো উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
শনিবার সকালে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন উখিয়ার পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে। এ ঘটনায় মোট ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং ছয়জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রিসোর্টের রেস্টুরেন্ট ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আগুন লাগার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কথা বলা হলেও প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
BanglaDock