`
ঢাকা | বাংলাব্দ
COX'S BAZAR WEATHER

কক্সবাজারে ৮০ ঝুঁকিপূর্ণ রিসোর্ট, ২০টি পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায়

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 19, 2026 ইং
কক্সবাজারে ৮০ ঝুঁকিপূর্ণ রিসোর্ট, ২০টি পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত
ad728

কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের দুই পাশে অন্তত ৮০টি ঝুঁকিপূর্ণ রিসোর্টের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অন্তত ২০টি গড়ে উঠেছে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায়। অধিকাংশ রিসোর্টেরই সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের ছাড়পত্র নেই। অনেক প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামও দেখা যায়নি।


সম্প্রতি উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে ১০ পর্যটকের মৃত্যুর পর এসব স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, রিসোর্টটিকে ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। পরিবেশ অধিদপ্তরও অনুমতি না থাকায় প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করেছিল।


সমকালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেরিন ড্রাইভের কলাতলী থেকে টেকনাফের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে সরেজমিনে অন্তত ৮০টি রিসোর্ট দেখা গেছে। এর বেশির ভাগই গত এক থেকে তিন বছরের মধ্যে নির্মিত হয়েছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে এখনো নির্মাণকাজ চলছে। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র ছাড়াই অনেক রিসোর্ট পরিচালিত হচ্ছে।


পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত নয় মাসে মেরিন ড্রাইভ এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ৩৬টি রিসোর্টকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২২টি প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন সময়ে সর্বোচ্চ সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে। পেভেল স্টোন সি রিসোর্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়েছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারে একটি রিসোর্ট নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রায় ১৭ ধরনের লাইসেন্স ও ছাড়পত্র প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার অনুমোদন।


কক্সবাজারের ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জেলায় প্রায় ৪০টি প্রতিষ্ঠান অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম মেনে চলছে। অন্যদিকে অনেক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট ঝুঁকিপূর্ণ বা অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। ফায়ার সার্ভিস নোটিশ দিয়ে সতর্ক করতে পারলেও সরাসরি উচ্ছেদ বা জরিমানা করার ক্ষমতা তাদের নেই।


পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার জেলায় পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল, কটেজ, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১২০টি সব ধরনের নিয়ম মেনে পরিচালিত হচ্ছে। বাকি ৩০০ থেকে ৩৫০টি প্রতিষ্ঠানের কোনো না কোনো অনুমোদন বা নিয়মসংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে।


কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানিয়েছেন, মেরিন ড্রাইভের শতাধিক প্রতিষ্ঠান যাচাইয়ের কাজ চলছে। অনুমোদন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে চূড়ান্ত নোটিশের পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।


সুশাসনের জন্য নাগরিক—সুজনের কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমানের মতে, অনুমোদনহীন ও অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণের শুরুতেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতো। পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জনবল সংকটের কারণে অনেক সময় অবৈধ স্থাপনা তাৎক্ষণিকভাবে নজরে আসে না।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : BanglaDock

কমেন্ট বক্স
২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ ঘোষণা, নিবন্ধনের শেষ সময় ২৪ সেপ্টেম্বর

২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ ঘোষণা, নিবন্ধনের শেষ সময় ২৪ সেপ্টেম্বর