`
ঢাকা | বাংলাব্দ
COX'S BAZAR WEATHER

বিশ্বে সরকারি ঋণে শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশের অবস্থান ৪৫তম

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 23, 2026 ইং
বিশ্বে সরকারি ঋণে শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশের অবস্থান ৪৫তম ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত
ad728

সরকারি ঋণের পরিমাণের দিক থেকে বিশ্বে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক সরকারি ঋণের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৪৫তম। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণের পরিমাণ ৪১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার, যা দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১২৭ শতাংশ। অন্যদিকে বাংলাদেশের সরকারি ঋণের পরিমাণ ২০৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির ৪০ শতাংশ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরকারি ঋণ ও সুদ পরিশোধের ব্যয় বাড়ছে। এতে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অবকাঠামো ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে অর্থ বরাদ্দের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে।


সরকারি ঋণের পরিমাণের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীন। দেশটির ঋণের পরিমাণ ২২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির ১০৪ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা জাপানের সরকারি ঋণ ৮ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির ১৯৯ শতাংশ। যুক্তরাজ্য চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ৪ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে, যা দেশটির জিডিপির ১০২ শতাংশ। পঞ্চম অবস্থানে থাকা ফ্রান্সের সরকারি ঋণ ৪ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির ১১৮ শতাংশ।


এ ছাড়া ইতালির সরকারি ঋণ ৩ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির ১৩৮ শতাংশ। জার্মানির ঋণ ৩ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যা জিডিপির ৬৫ শতাংশ। ভারত ৩ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার সরকারি ঋণ নিয়ে তালিকার সপ্তম অবস্থানে রয়েছে; দেশটির ঋণ-জিডিপি অনুপাত ৮৩ শতাংশ।


বাংলাদেশের সরকারি ঋণের পরিমাণ গত দেড় দশকে প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে। ২০১০ সালে দেশের ঋণ ছিল ৪০ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে। তবে ঋণ-জিডিপি অনুপাতের দিক থেকে বাংলাদেশের হার যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও ইতালির তুলনায় কম।


আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সাল নাগাদ ফ্রান্সের সরকারি ঋণ জিডিপির ১২১ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এতে দেশটির সরকারি অর্থব্যবস্থাকে টেকসই অবস্থায় ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা আরও কঠিন হতে পারে।


সরকার সাধারণত বন্ড বিক্রির মাধ্যমে ঋণ সংগ্রহ করে। বিনিয়োগকারীরা সরকারকে অর্থ দেওয়ার বিনিময়ে নির্দিষ্ট হারে সুদ পান এবং নির্ধারিত মেয়াদ শেষে মূল অর্থ ফেরত পাওয়ার কথা থাকে। বন্ডের দাম কমলে সাধারণত এর ইল্ড বা মুনাফার হার বেড়ে যায়। ফলে সরকারকে নতুন ঋণ নিতে বেশি সুদ দিতে হয়, যা বাজেটের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।


ইউরোপে সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সকে ১০ বছর মেয়াদি ঋণের জন্য প্রায় ৫ শতাংশ সুদ দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে জার্মানির ক্ষেত্রে এ হার ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ। ঋণের খরচ বৃদ্ধি এবং সরকারি ব্যয় কমানোর উদ্যোগের মধ্যে ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাজেট নিয়ে বিক্ষোভও হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার দেশজুড়ে পাঁচ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়।


ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সের (আইআইএফ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে সরকার, পরিবার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে বিশ্বে মোট ঋণ বেড়েছে ১০ ট্রিলিয়ন ডলার। গত জুনের শেষে বৈশ্বিক ঋণের পরিমাণ ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। মাথাপিছু হিসাবে বিশ্বের প্রত্যেক মানুষের ওপর ঋণের পরিমাণ প্রায় ৪৪ হাজার ডলার।


একই সময়ে সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয়ও বেড়েছে। গত এক বছরে উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো সরকারি বন্ডের সুদ পরিশোধে ৩ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে। এই পরিমাণ বিশ্বে সামরিক খাতে ৩ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে ২ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে ২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয়ের চেয়েও বেশি।


বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় বাড়লে জনসেবামূলক খাতে বরাদ্দ কমানোর বা কর বাড়ানোর চাপ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি সরকারের ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়লে বেসরকারি খাতেও ঋণের সুদ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও আর্থিক সক্ষমতার ওপর পড়তে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : BanglaDock

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত

চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত