কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকের চালান আত্মসাতের অভিযোগে চারজনকে ধরে পাহাড়ে নিয়ে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মোক্তার কামাল ও মো. আকবর নামে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে আরও দুজনকে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের পশ্চিম পানখালী বন বিট অফিসের পাশ থেকে মোক্তার কামালের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে দুপুরে একই এলাকা থেকে মো. আকবরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে পানখালী বন বিট অফিসের পাশে কয়েকজনকে পড়ে থাকতে দেখেন বাসিন্দারা। পরে তাঁদের উদ্ধারের সময় একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। নিহত মোক্তার কামাল হোয়াইক্যং ইউনিয়নের দৈংগ্যাকাটা এলাকার বাসিন্দা।
এ সময় আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তুলাতুলী এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে ইলিয়াস এবং একই এলাকার বাসিন্দা আলী আহমদকে।
মাদকের চালান ছিনতাই ঘিরে বিরোধে আহত ইলিয়াসের দাবি, মাদকের একটি চালান চেকপোস্ট পার করে টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ের দৈংগ্যাকাটা পাহাড়ে অন্য একটি গ্রুপের কাছে হস্তান্তরের পথে ডাকাত দলের সদস্যরা সেটি ছিনিয়ে নেয়। পরে ছিনিয়ে নেওয়া চালানের ৭০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হলেও বাকি ৩০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে।
ইলিয়াস আরও জানান, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে হোয়াইক্যংয়ের তুলাতুলী এলাকার মিজান সোমবার রাতে বিচারের কথা বলে তাঁদের চারজনকে হ্নীলার একটি গ্রুপের হাতে তুলে দেন। পরে ওই গ্রুপের সদস্যরা তাঁদের পাহাড়ে নিয়ে ব্যাপক মারধর করেন। নির্যাতনকারীদের হাতে অস্ত্র ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, হ্নীলা ইউনিয়নের পানখালী এলাকা থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সময় ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় আরও দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ববিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
BanglaDock