`
ঢাকা | বাংলাব্দ
COX'S BAZAR WEATHER

কক্সবাজারের পর্যটন নিয়ে মহাপরিকল্পনা, পরিবেশগত বিধিনিষেধ শিথিলের ইঙ্গিত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 25, 2026 ইং
কক্সবাজারের পর্যটন নিয়ে মহাপরিকল্পনা, পরিবেশগত বিধিনিষেধ শিথিলের ইঙ্গিত ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত
ad728

কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উপকূলীয় এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে থাকা ৫০ মিটার ও ৫০০ মিটারের বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।


কক্সবাজারের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও উপস্থিত ছিলেন।


অর্থমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারে ৫০ মিটার ও ৫০০ মিটারের বিভিন্ন বিধিনিষেধ নতুন করে বিবেচনা করতে হবে। যেখানে পর্যটন উন্নয়ন হবে, সেখানে হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলার সুযোগ থাকতে হবে। তবে পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করেই উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।


তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষা করা পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। কিন্তু এমন কঠোর বিধিনিষেধ থাকা উচিত নয়, যাতে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উপকূলীয় এলাকায় পরিকল্পিত উন্নয়ন হয়েছে, বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিক মানের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।


অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ ছোট দেশ হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে বহুতল বা উল্লম্ব উন্নয়নকে উৎসাহিত করতে হবে। তা না হলে শিল্পাঞ্চল, জলাধার ও কৃষিজমি রক্ষা করা কঠিন হবে। বিশ্বের বড় পর্যটন নগরীগুলোও বহুতল ভবনভিত্তিক পরিকল্পনার ওপর গড়ে উঠেছে। কক্সবাজারেও সেই দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করা হবে।


তিনি জানান, কক্সবাজারকে ঘিরে সরকারের বড় পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ এগোচ্ছে, রেল যোগাযোগ চালু হয়েছে এবং চট্টগ্রাম থেকে উন্নত সড়ক যোগাযোগও গড়ে তোলা হচ্ছে। এসব অবকাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে কক্সবাজারকে আধুনিক ডিজিটাল পর্যটন নগরীতে রূপ দেওয়া হবে।


অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যে কক্সবাজারকে অন্যতম প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। পর্যটন, বাণিজ্য ও সেবা খাতের বিকাশের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে এই জেলার অবদান আরও বাড়বে।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কক্সবাজারের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব অর্থমন্ত্রীকে দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হবে। ২০২৬ সালের মধ্যে এ পরিকল্পনা প্রস্তুত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, মাস্টারপ্ল্যানের লক্ষ্য কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটনকেন্দ্রের পাশাপাশি একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব পর্যটন এলাকা নির্ধারণ, মেরিন ড্রাইভ ও উপকূলীয় এলাকার বিদ্যমান বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়গুলো এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতকে জাতীয় অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকা শক্তিতে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে। পর্যটন থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বৃদ্ধি এবং বিদেশি পর্যটক আকৃষ্ট করাও এ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।


এছাড়া কক্সবাজারে বিশ্ববিদ্যালয়, আধুনিক গবেষণা ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র, নিরাপদ পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা ও পানি শোধনাগারসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করে কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন ও বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার হিসেবে প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : BanglaDock

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
দক্ষতা উন্নয়নে নজর কম, ফ্রিল্যান্সার তৈরির হিড়িক

দক্ষতা উন্নয়নে নজর কম, ফ্রিল্যান্সার তৈরির হিড়িক