সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অচেনা কারও সঙ্গে পরিচয় থেকে দ্রুত ঘনিষ্ঠতা, ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ এবং পরে অন্তরঙ্গ ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি—এভাবেই হানি ট্র্যাপের ফাঁদে ফেলছে একটি প্রতারক চক্র। প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে গোয়েন্দা কার্যক্রমের পুরোনো এই কৌশল এখন সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধেও ব্যবহৃত হচ্ছে।
সাইবার অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, হানি ট্র্যাপ চেনার অন্যতম লক্ষণ হলো অল্প সময়ের পরিচয়েই অতিরিক্ত ভালোবাসা বা আবেগ দেখানো। মনস্তাত্ত্বিকভাবে যাকে ‘লাভ বম্বিং’ বলা হয়। সরাসরি ভিডিও কলে আসতে নানা অজুহাত দেখানো, ব্যক্তিগত জীবন ও আর্থিক অবস্থার তথ্য জানার চেষ্টা এবং একপর্যায়ে অন্তরঙ্গ ভিডিও বা ছবি ধারণের চেষ্টা—এসবও প্রতারণার গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।
অনেক ক্ষেত্রে প্রতারকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয় ও অন্যের ছবি ব্যবহার করে সম্পর্ক তৈরি করে। পরে পরিবারের সদস্যের অসুস্থতা, আইনি জটিলতা কিংবা অন্য কোনো জরুরি সমস্যার কথা বলে অর্থ দাবি করা হয়। আবার কারও কাছ থেকে পাওয়া ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেলের মাধ্যমে বড় অঙ্কের টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অচেনা ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্য, বাসার ঠিকানা, কর্মস্থল, আয়, পরিবারের তথ্য কিংবা রিয়েল-টাইম অবস্থান প্রকাশ করা উচিত নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহৃত প্রোফাইল ছবিও রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে যাচাই করা যেতে পারে।
এ ছাড়া অনলাইনে এমন কোনো ছবি বা ভিডিও শেয়ার করা উচিত নয়, যা অন্যের হাতে গেলে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সামনাসামনি পরিচয় নেই—এমন কারও অনুরোধে অর্থ পাঠানো থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
হানি ট্র্যাপে পড়ে গেলে ভয়ে প্রতারকের দাবি মেনে নেওয়া উচিত নয়। বরং চ্যাট, ছবি, ভিডিও ও অর্থ লেনদেনের তথ্যসহ সব প্রমাণ সংরক্ষণ করে প্রতারকের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করতে হবে। এরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া উচিত।
BanglaDock