বাজারে মাছ দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য ফরমালিন ব্যবহার করা হয় বলে ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফরমালিনযুক্ত মাছ নিয়মিত খেলে শ্বাসতন্ত্র, পরিপাকতন্ত্র, কিডনি, লিভার ও ত্বকের নানা ধরনের সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ফরমালিন দেওয়া মাছ চেনার কয়েকটি লক্ষণ রয়েছে। স্বাভাবিক মাছের তুলনায় এমন মাছের মাংস অস্বাভাবিকভাবে শক্ত, অনমনীয় বা রাবারের মতো অনুভূত হতে পারে। মাছের স্বাভাবিক আঁশটে গন্ধের পরিবর্তে হালকা তীব্র রাসায়নিক গন্ধ পাওয়া যেতে পারে। অনেক সময় মাছের ফুলকা অস্বাভাবিক উজ্জ্বল লাল দেখায় এবং আঁশ শক্ত হয়ে যায়।
আরেকটি প্রচলিত লক্ষণ হলো মাছের ওপর মাছি না বসা। ফরমালিনের তীব্র গন্ধের কারণে মাছি এমন মাছ এড়িয়ে চলতে পারে। তবে শুধু মাছি না বসাকে ফরমালিনের নিশ্চিত প্রমাণ হিসেবে ধরা উচিত নয়।
ফরমালিনের সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে মাছ ভালোভাবে ধোয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। চলমান পানিতে ১০ থেকে ১২ মিনিট মাছ ধুয়ে নিলে পানিতে দ্রবণীয় কিছু রাসায়নিকের পরিমাণ কমতে পারে। হালকা গরম পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে ধুয়েও উপকার পাওয়া যেতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সন্দেহজনক মাছ কাঁচা বা আধাসেদ্ধ অবস্থায় না খাওয়ার পরামর্শ দেন। মাছ উচ্চ তাপে ভালোভাবে রান্না করলে খাদ্যজনিত ঝুঁকি কিছুটা কমানো সম্ভব।
তবে কেবল বাহ্যিক লক্ষণ দেখে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে কোনো মাছে ফরমালিন রয়েছে। সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো বিশ্বস্ত উৎস থেকে মাছ কেনা এবং যথাযথভাবে পরিষ্কার ও রান্না করে খাওয়া।
BanglaDock