বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে কক্সবাজারে র্যালি, পর্যটন মেলা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হলেও এর পাশেই সৈকতের বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে আবর্জনার স্তূপ, দুর্গন্ধ ও অবাধে ঘুরে বেড়ানো গরু। কোথাও গরু-ঘোড়ার বিচরণ, আবার কোথাও ভিক্ষুক ও টুকাইদের উৎপাত নিয়ে পর্যটকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসন ও সি-বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির উদ্যোগে সিইন পয়েন্ট থেকে র্যালি বের হয়ে লাবণী পয়েন্টে আয়োজিত পর্যটন মেলায় গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে কক্সবাজারে তিন দিনব্যাপী পর্যটন মেলা, সৈকত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকজ সংগীত, ফায়ার শো, ব্যান্ড শো ও ঘুড়ি উৎসবসহ বিভিন্ন আয়োজন করা হয়েছে।
আলোচনা সভায় কক্সবাজারকে নিরাপদ, আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও বিশ্বমানের পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়। পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তবে আয়োজনের মধ্যেই সৈকতের বাস্তব চিত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। র্যালির পথ ও সিইন পয়েন্টের বিভিন্ন স্থানে আবর্জনার স্তূপ পড়ে থাকতে দেখা যায়। কোথাও কোথাও ময়লা থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। এর মধ্যেই সৈকতে গরুর পাল ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়।
পর্যটকদের অভিযোগ, গরু-ঘোড়ার অবাধ বিচরণ, ভিক্ষুক ও টুকাইদের উৎপাতসহ নানা অনিয়মের কারণে তারা স্বস্তিতে সময় কাটাতে পারছেন না। তাদের মতে, শুধু র্যালি, মেলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়, পর্যটনকেন্দ্রের দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনাতেও দৃশ্যমান পরিবর্তন প্রয়োজন।
কক্সবাজার শহর থেকে টেকনাফ পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভের বিভিন্ন পর্যটন সম্ভাবনাময় এলাকাতেও অবকাঠামো, পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনায় নানা সমস্যা রয়েছে। কোথাও রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত, কোথাও সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন এলাকায় গরু-ছাগলের অবাধ বিচরণও রয়েছে।
পর্যটনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সৈকত ও পর্যটন এলাকার পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, গরু-ঘোড়ার অবাধ বিচরণ বন্ধ, ভিক্ষুক ও টুকাই নিয়ন্ত্রণ, যানবাহন ব্যবস্থাপনা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে উন্নয়নের নামে পরিবেশ ও সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
তাদের মতে, বিশ্বমানের পর্যটন নগরী গড়ার ঘোষণা বাস্তবায়নে এখন প্রয়োজন পর্যটনকেন্দ্রের প্রতিদিনের ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন। পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনা আরও বাড়বে।
BanglaDock