কক্সবাজারের পেকুয়ায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আকস্মিক ঝোড়ো হাওয়ার তাণ্ডবে বেশ কিছু বসতবাড়ি ও দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে গাছপালা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি বিদ্যুতের খুঁটি ও তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় বজ্রপাতসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কালবৈশাখীর মতো আকস্মিক ঝোড়ো হাওয়া শুরু হয়। এ সময় দমকা বাতাসের সঙ্গে তীব্র বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ের তীব্রতায় অনেক বসতঘর ও দোকানের টিনের চালা এবং বেড়া উড়ে যায়। বিভিন্ন স্থানে গাছের ডালপালা ভেঙে সড়কে পড়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
ঝড়ের সময় বেশ কয়েকজন আহত হন। তাদের মধ্যে বজ্রপাতে গুরুতর আহত আবুল হোসেনকে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি রাজাখালী ইউনিয়নের বকসিয়াঘোনা এলাকার মৃত নজির আহমদের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, মগনামা ইউনিয়নের কাটাপাড়ি ব্রিজসংলগ্ন বাইন্যাঘোনা এলাকায় ঝড়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি ছিল। সেখানে অন্তত ১০টি দোকান ও কয়েকটি বসতবাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বেশ কয়েকটি দোকানের টিনের চালা উড়ে প্রায় ১০০ মিটার দূরে প্রধান বিদ্যুতের লাইনের ওপর গিয়ে পড়ে। এতে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অর্ধশতাধিক বসতবাড়ি ও কয়েকটি অস্থায়ী স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে আকস্মিক এই দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এর আগে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। এর সঙ্গে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টিরও পূর্বাভাস ছিল।
BanglaDock