কক্সবাজার শহরের সুগন্ধা মোড়ে সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা ‘সুগন্ধা মার্কেট’ উচ্ছেদের পর জায়গাটি কাঁটাতার ও বেড়া দিয়ে ঘিরে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) জমিটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রশাসনের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমি দখল করে ব্যবসা চালানো হলেও এ থেকে কোনো রাজস্ব আদায় হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বাতিল হওয়া সরকারি প্লট দখল করে সেখানে ৭৪টি স্থাপনা গড়ে তোলা হয়। এসব স্থাপনা থেকে বছরে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ভাড়া আদায় করা হতো বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। তবে সরকারি কোষাগারে কোনো রাজস্ব জমা পড়েনি বলে অভিযোগ রয়েছে।
জেলা প্রশাসন ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালে টেকনাফ থেকে নাজিরার টেক পর্যন্ত এলাকাকে পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়। পরে ২০১১ সালে উচ্চ আদালতের রায়ে কলাতলী হোটেল-মোটেল জোনের ৪৯টি প্লট বাতিল হয়। ২০১৮ সালের আরেকটি রায়ের পর এসব জমি ১ নম্বর খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে ২০০০৩ দাগের ৩৯ দশমিক ৭৮ একর জমি খাস হিসেবে চিহ্নিত হয়।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, হোটেল-মোটেল জোনে সম্প্রতি চারটি উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে অন্তত ১৫ একর সরকারি জমি দখলমুক্ত করা হয়েছে। তবে আগেও উচ্ছেদের পর কিছু জমি পুনরায় দখল হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সুগন্ধা মোড়ের জমি দখলকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষও হয়েছে। এতে সোহাগ (৩২) নামে এক ব্যবসায়ী আহত হন।
স্থানীয়দের দাবি, পুনরায় দখল ঠেকাতে উদ্ধার করা জমিতে স্থায়ী দেয়াল নির্মাণ, গাছ লাগানো কিংবা পরিকল্পিতভাবে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এতে সরকারি সম্পদ সুরক্ষার পাশাপাশি রাজস্ব আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন তারা।
জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুর রহমান সায়েম জানান, দখলমুক্ত সরকারি জমিতে সাইনবোর্ড লাগানো হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে সব জায়গা ঘেরাও করা হবে। যারা এখনো সরকারি জমি দখল করে আছেন, তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। নিজ উদ্যোগে জমি ছেড়ে না দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করে রাখলে সংশ্লিষ্টদের উচ্ছেদ করা হবে। ইতিমধ্যে ১৫ একর জমি দখলমুক্ত করা হয়েছে এবং উদ্ধার করা জমি সুরক্ষায় ঘেরাও দেওয়ার কাজ চলছে।
BanglaDock