কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুলে জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য নির্মিত বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পে লটারির মাধ্যমে ৭৩০টি পরিবারকে বিনা মূল্যে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ঝুপড়িঘরে বসবাস করা শত শত পরিবার স্থায়ী আবাসনের সুযোগ পাচ্ছে।
উপকারভোগীদের মধ্যে রয়েছেন পারভীন আক্তার, যিনি ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে কুতুবদিয়ার তাবলেরচরে নিজের বসতভিটা হারিয়ে কক্সবাজার শহরের খাসজমিতে ঝুপড়িতে বসবাস করছিলেন। ফ্ল্যাট বরাদ্দ পাওয়ার পর তিনি বলেন, বৃষ্টির সময় ঝুপড়িতে থাকা খুব কষ্টকর ছিল, আর এখন পাঁচতলা ভবনে থাকার সুযোগ পাওয়ায় তাঁর জীবনে বড় পরিবর্তন আসছে।
জেলে রেজাউল করিমও লটারির মাধ্যমে একটি ফ্ল্যাট পেয়েছেন। তিনি বলেন, কোনো দিন ভাবেননি যে একটি ফ্ল্যাটের মালিক হবেন।
জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় সবার উপস্থিতিতে লটারি অনুষ্ঠিত হয়। এতে দুই হাজারের বেশি জলবায়ু উদ্বাস্তু অংশ নেন। অধিকাংশ উপকারভোগী অতিদরিদ্র ও শ্রমজীবী পরিবারের সদস্য।
কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণের জন্য বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের লক্ষ্যে খুরুশকুলে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড ১ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
প্রকল্পের আওতায় ১২৮টি পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে, যেখানে মোট ৪ হাজার ১২৮টি পরিবারের স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা হবে। পাশাপাশি সড়কবাতি, মসজিদ, মন্দির, কমিউনিটি সেন্টার, সাইক্লোন শেল্টার, মার্কেট কমপ্লেক্স, সেতু, জেটি, পানি শোধনাগার ও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিরাজুল ইসলাম বলেন, এটি শুধু আবাসন প্রকল্প নয়; বরং জলবায়ু উদ্বাস্তু পরিবারগুলোর জীবনে স্থায়িত্ব ও মর্যাদা ফিরিয়ে আনার একটি মানবিক উদ্যোগ।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় লটারির মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর আগে ৬০০ পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছিল এবং অবশিষ্ট পরিবারগুলোকেও পর্যায়ক্রমে একই প্রক্রিয়ায় পুনর্বাসন করা হবে।
BanglaDock