কক্সবাজারের খরুলিয়ায় চলন্ত গাড়ির গতিরোধ করে মাহমুদুল হক (৫২) নামে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলার খরুলিয়া রশিদ মেম্বারের গ্যাস পাম্পের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মাহমুদুল হকের বাড়ি কক্সবাজার সদরের লিংক রোড এলাকায়। বর্তমানে তিনি পরিবার নিয়ে শহরের হাশেমিয়া মাদরাসা এলাকায় বসবাস করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুরে নোয়া গাড়ি নিয়ে রামুর উদ্দেশে রওনা হন তিনি। পথে খরুলিয়া এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা ছয় ব্যক্তি তার গাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে গতিরোধ করে।
বিষয়টি বুঝতে পেরে গাড়ি থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করেন মাহমুদুল হক। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে তার পিঠ, কোমরসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি লাগে। একটি গুলি শরীরের ভেতরে রয়ে গেছে বলে জানা গেছে। পরে হামলাকারীরা পালিয়ে গেলে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হামলার পেছনে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে দায়ী করেছেন মাহমুদুল হক। তার অভিযোগ, লিংক রোড এলাকার বিএনপি নেতা লিয়াকত আলীর সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। গত ৫ আগস্টের পর তাদের এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
মাহমুদুল হকের অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে লিয়াকত আলীর ভাই জায়েদ, কিতাব আলী ও ওয়াজেদ আলী এবং তাদের সহযোগী নাসেরসহ ছয়জন তার ওপর হামলা চালিয়েছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কিতাব আলী। তিনি বলেন, তিনি বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন। সেখানে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না এবং হামলার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশের কয়েকটি দল মাঠে কাজ শুরু করেছে। হামলায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ মে কক্সবাজার আদালত চত্বরে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী ও তার ভাই জায়েদের নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের লোকজনের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন।
BanglaDock