কক্সবাজারের টেকনাফে যৌথ অভিযান চালিয়ে মানবপাচার চক্রের দুই কথিত মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় হত্যা ও অস্ত্র মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন অপরাধে আরও ১০ জনকে আটক করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) টেকনাফে ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) আওতাধীন বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে ১৬ এপিবিএনসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের সদস্যরা অংশ নেন।
১৬ এপিবিএন সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মানবপাচার চক্রের অন্যতম হোতা ও একাধিক মামলার আসামি মো. কবির ওরফে ডাক্তার কবির (৬৫) এবং তাঁর সহযোগী মো. ইলিয়াস ওরফে ইলিয়াস মেম্বারকে (৪২) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা দুজনই টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা ২৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।
এপিবিএন সূত্রের দাবি, ২০২৬ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর সময় আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে একটি নৌকা ডুবে যায়। ওই নৌকাটি পাঠানোর সঙ্গে গ্রেপ্তার কবির ও ইলিয়াস জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পরে নৌকাডুবির ঘটনায় ড্রাম ও কাঠের টুকরো ধরে ভাসতে থাকা কয়েকজনকে উদ্ধার করে কোস্টগার্ড।
এদিকে, একই দিন নয়াপাড়া নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে হত্যা ও অস্ত্র মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আবু তৈয়ব (৩৬) নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। একটি মামলায় তাঁর চার বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা হয়েছিল।
অভিযান চলাকালে সরকারি আদেশ অমান্য, মাদকসেবন, বাবা-মাকে মারধর এবং ক্যাম্পে অবৈধভাবে প্রবেশসহ বিভিন্ন অপরাধে আরও ১০ জনকে আটক করা হয়। পরে মোবাইল কোর্ট তাঁদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনকে ছয় মাস করে, একজনকে পাঁচ মাস এবং দুজনকে তিন মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি চারজনকে ৫০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিয়ে টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এপিবিএন।
টেকনাফ ১৬ এপিবিএনের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ কাউছার সিকদার অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও অপরাধ দমনে যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
BanglaDock