অল্প বয়সেই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। অনিয়মিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত চিনি ও তেল-চর্বিযুক্ত খাবার, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, বাড়তি ওজন, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া এবং দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ এর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে দীর্ঘ সময় বসে থাকা ও অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়ায় রক্তে শর্করার সমস্যা দ্রুত দেখা দিচ্ছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনলে অল্প বয়সে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো খাদ্যাভ্যাস ও দৈনন্দিন রুটিনে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা।
ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে আঁশযুক্ত খাবার বেশি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। শাকসবজি, ডাল, ওটস, লাল চাল, আটার রুটি, বিভিন্ন ধরনের শিম এবং পরিমিত ফল রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এসব খাবার হজম হতে বেশি সময় নেয় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে।
মিষ্টি, কোমল পানীয়, প্যাকেটজাত জুস, কেক, পেস্ট্রি, চকলেট এবং অতিরিক্ত চিনি যুক্ত খাবার কম খাওয়া জরুরি। চা বা কফিতে চিনি কমানো এবং তৃষ্ণা মেটাতে সাধারণ পানি পান করার অভ্যাস উপকারী।
প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিবর্তে ভাত, ডাল, মাছ, ডিম ও ঘরে তৈরি খাবারকে গুরুত্ব দিতে হবে। নিয়মিত শরীরচর্চাও ডায়াবেটিস প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার বা অন্য কোনো ব্যায়াম করা ভালো।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা বিশেষভাবে প্রয়োজন, কারণ অতিরিক্ত ওজন ও পেটের চর্বি ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। একই সঙ্গে প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতে হবে। নিয়মিত রাত জাগা শরীরের বিপাকক্রিয়া ও হরমোনের ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
দীর্ঘদিনের মানসিক চাপও রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে। তাই নিয়মিত হাঁটাহাঁটি, বই পড়া, গান শোনা, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো বা পছন্দের কোনো কাজে সময় দেওয়া মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, সব সময় ক্ষুধা লাগা, চোখে ঝাপসা দেখা বা কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে খালি পেটে রক্তে শর্করা ও HbA1c পরীক্ষা করানো উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস প্রতিরোধের জন্য কোনো একটি বিশেষ খাবার বা পানীয় নয়; বরং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাভাবিক ওজন, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ—এই অভ্যাসগুলো একসঙ্গে অনুসরণ করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সূত্র: এনডিটিভি।
BanglaDock