`
ঢাকা | বাংলাব্দ
COX'S BAZAR WEATHER

বালিশের পাশে ফোন রেখে ঘুমালে যেসব ঝুঁকি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 20, 2026 ইং
বালিশের পাশে ফোন রেখে ঘুমালে যেসব ঝুঁকি ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত
ad728

ঘুমানোর আগে মোবাইল ফোন ব্যবহার এবং বালিশের পাশে ফোন রেখে ঘুমানোর অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। তবে এ অভ্যাস ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটানোর পাশাপাশি চার্জ দেওয়ার সময় অতিরিক্ত গরম হওয়া ও আগুন লাগার মতো নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বিছানার পাশে ফোন রাখলেই ক্যানসার বা গুরুতর রোগ হয়—এমন নিশ্চিত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।


মোবাইল ফোনের স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদমে প্রভাব ফেলতে পারে। রাতে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারে মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ কমে ঘুম আসতে দেরি হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করা, ভিডিও দেখা কিংবা বার্তা পড়ার মতো অভ্যাসও মস্তিষ্ককে সজাগ রাখে। তাই ঘুমানোর অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে ফোন ব্যবহার বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।


ফোন ব্যবহার না করলেও কল, বার্তা, নোটিফিকেশন ও ভাইব্রেশনের কারণে ঘুম ভেঙে যেতে পারে। এতে ঘুমের ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়ে দিনের বেলায় ক্লান্তি, বিরক্তি ও মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এ ঝুঁকি কমাতে ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ বা সাইলেন্ট মোড চালু করে ফোনটি বালিশ থেকে কিছুটা দূরে রাখা যেতে পারে।


মোবাইল ফোন থেকে রেডিওফ্রিকোয়েন্সি বা আরএফ শক্তি নির্গত হয়, যা নন-আয়োনাইজিং বিকিরণের অন্তর্ভুক্ত। দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে গবেষণা চললেও মোবাইল ফোন ব্যবহার ও মস্তিষ্কের টিউমারের মধ্যে নিশ্চিত কার্যকারণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়নি। আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থা এই বিকিরণকে ‘সম্ভাব্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী’ হিসেবে গ্রুপ ২বি শ্রেণিতে রেখেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে মোবাইল ফোন ক্যানসার সৃষ্টি করে—এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে।


রাতে ফোন কাছে রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে তাৎক্ষণিক ঝুঁকিগুলোর একটি হলো চার্জ দেওয়ার সময় অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া। বালিশ, কম্বল বা তোশকের নিচে ফোন রেখে চার্জ দিলে তাপ বের হতে পারে না। এতে ফোন অতিরিক্ত গরম হওয়া ও আগুন লাগার ঝুঁকি বাড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাটারি, ত্রুটিপূর্ণ চার্জার ও নষ্ট তারও এ ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই ফোন চার্জ দেওয়ার সময় বিছানা ও দাহ্য বস্তু থেকে দূরে শক্ত, সমতল জায়গায় রাখা এবং উপযুক্ত চার্জার ব্যবহার করা জরুরি।


এ ছাড়া গভীর রাতে খবর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অফিসের বার্তা দেখার অভ্যাস মানসিক চাপ বাড়াতে পারে এবং ঘুমের সময় কমিয়ে দিতে পারে। তবে ফোন কাছে থাকলেই উদ্বেগ বা বিষণ্ণতা তৈরি হয়—এমন নয়। ঘুমের আগে ফোন ব্যবহারের সময় সীমিত রাখা এবং বিকল্প হিসেবে বই পড়া, আরামদায়ক অডিও শোনা বা শ্বাস-প্রশ্বাসের সহজ অনুশীলন ঘুমের প্রস্তুতিতে সহায়ক হতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : BanglaDock

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সেমিকন্ডাক্টর খাতের বিকাশে টাস্কফোর্স গঠন, সদস্য ১৩ জন

সেমিকন্ডাক্টর খাতের বিকাশে টাস্কফোর্স গঠন, সদস্য ১৩ জন