`
ঢাকা | বাংলাব্দ
COX'S BAZAR WEATHER

সাত দশক পর ব্রহ্মপুত্র দিয়ে আসাম থেকে বাংলাদেশে মিথানল

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 6, 2026 ইং
সাত দশক পর ব্রহ্মপুত্র দিয়ে আসাম থেকে বাংলাদেশে মিথানল ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত
ad728

সাত দশক পর আবারও ব্রহ্মপুত্র নদ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌযাত্রা শুরু হয়েছে। আসামের ডিব্রুগড় থেকে ৫৪০ মেট্রিক টন মিথানল নিয়ে বাংলাদেশের পানগাঁও বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে পণ্যবাহী বার্জ ‘ডিএলবি পাটকাই’। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ভারতের স্বাধীনতার পর আসাম থেকে সরাসরি বাংলাদেশের বন্দরের উদ্দেশে বাণিজ্যিক নৌযাত্রার এটি প্রথম ঘটনা।


সোমবার আসামের বগিবিল টার্মিনাল থেকে ‘কুশল কোঁওর’ নামের টাগবোটের সহায়তায় বার্জটি যাত্রা শুরু করে। আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করেন ভারতের কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা।


এই চালানের মিথানল উৎপাদন করেছে আসামের নামরূপের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান আসাম পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেড। বগিবিল থেকে পানগাঁও পর্যন্ত নৌপথের দূরত্ব প্রায় ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ভারতের অংশে ব্রহ্মপুত্রের জাতীয় জলপথ-২ দিয়ে প্রায় ৭৬৮ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে বার্জটি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে পৌঁছাবে। এরপর ভারত-বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপথ প্রটোকল রুট ব্যবহার করে পানগাঁও বন্দরে যাবে।


একসময় ব্রহ্মপুত্র দিয়ে ডিব্রুগড় থেকে চা ও অন্যান্য পণ্য পরিবহন করা হতো। তবে রেলপথের বিস্তারের সঙ্গে নদীপথে পণ্য পরিবহন কমে যায় এবং ১৯৫৬ সালে ডিব্রুগড়ের ঐতিহাসিক ঘাটটি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। সম্প্রতি বগিবিল ও ধুবড়িতে কাস্টমস ও অভিবাসন অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বগিবিলে যাত্রী ও পণ্য টার্মিনালও চালু হয়।


এর আগে ২০২২ সালে বাংলাদেশের জলপথ ব্যবহার করে ভারতের হলদিয়া থেকে গুয়াহাটির পান্ডুতে টাটা স্টিলের পণ্য পরিবহন করা হয়। ২০২৩ সালে পর্যটকবাহী জাহাজ ‘এমভি গঙ্গা বিলাস’ও এই পথ অতিক্রম করে। তবে আসাম থেকে সরাসরি কোনো বিদেশি বন্দরের উদ্দেশে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের ঘটনা এবারই প্রথম বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে মিথানলের ব্যবহার রয়েছে। ফলে আসাম থেকে সরাসরি নদীপথে মিথানল পরিবহনের এই উদ্যোগ দুই দেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত নদীপথে পণ্য পরিবহন চালু হলে পরিবহন ব্যয় ও সময় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে নিয়মিত নৌসেবা, কাস্টমস ও পণ্য খালাস প্রক্রিয়া সহজ করা এবং ফেরার পথে পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরির ওপর।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : BanglaDock

কমেন্ট বক্স
সাজেকে টানা অবরোধের প্রতিবাদে ৪৮ ঘণ্টার পাল্টা অবরোধের ডাক

সাজেকে টানা অবরোধের প্রতিবাদে ৪৮ ঘণ্টার পাল্টা অবরোধের ডাক