জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সাত নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি পাঁচজনের অর্জিত সম্পদের অর্ধেক বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বাজেয়াপ্ত সম্পদের অর্থ শহীদ পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসনে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে শেখ ফজলে শামস পরশ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তার সম্পদের বিস্তারিত হলফনামা পাওয়া যায়নি।
২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, ওবায়দুল কাদেরের অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে নগদ ৮০ হাজার টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭৬ লাখ টাকা, সঞ্চয়পত্র প্রায় দেড় কোটি টাকা এবং একটি গাড়ির মূল্য ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া ২৫ তোলা সোনার মূল্য দেড় লাখ টাকা, ইলেকট্রনিকস সামগ্রী ৯ লাখ ২০ হাজার এবং আসবাব ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। ঢাকার উত্তরায় ৫ কাঠা জমির মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ৫১ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে তার ঘোষিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ২৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। তার হাতে নগদ ছিল ৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, ব্যাংকে ৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ও বন্ডের মূল্য ১১ কোটি ১৪ লাখ টাকা। এছাড়া সঞ্চয়পত্র ৬০ লাখ, দুটি গাড়ি প্রায় ৬৫ লাখ এবং অন্যান্য সম্পদের তথ্য রয়েছে। স্থাবর সম্পদের মধ্যে মাদারীপুর ও সাভারে ১৩৯ শতাংশ কৃষিজমি এবং দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, মাদারীপুর ও গাজীপুরে ১৫৩ শতাংশ অকৃষিজমি রয়েছে। এসব জমির মূল্য দেখানো হয়েছে মোট ২ কোটি ২৪ লাখ টাকা। উত্তরায় ভবন ২ কোটি ৭১ লাখ এবং মিরপুরে ফ্ল্যাট ৪৫ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে নাছিমের স্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
মোহাম্মদ আলী আরাফাতের নামে স্থাবর সম্পদের মধ্যে গুলশান-২ এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে, যার মূল্য হলফনামায় ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নয়টি কোম্পানির শেয়ার রয়েছে প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকার। এছাড়া ৩৪ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ১৭ লাখ ২০ হাজার টাকার গাড়ি এবং ৩ লাখ টাকার ইলেকট্রনিকস সামগ্রী রয়েছে। সব মিলিয়ে তার নিজের নামে অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।
সাবেক সংসদ সদস্য মাইনুল হোসেন খান নিখিলের ঘোষিত স্থাবর সম্পদের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৬ একর কৃষিজমির মূল্য ৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা এবং ৫৭ দশমিক ৫০ শতাংশ কৃষিজমির মূল্য ২৫ লাখ ৫২ হাজার টাকা। তিন কাঠার একটি অকৃষি প্লটের মূল্য ৪ লাখ ৭১ হাজার ৬০০ টাকা এবং বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট শ্রেণির সম্পদের মূল্য ৩৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬১০ টাকা। সব মিলিয়ে তার স্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৬৯ লাখ ১৬ হাজার টাকা।
নিখিলের অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ ২৪ লাখ টাকার কিছু বেশি, নিজের নামে ১ কোটি টাকার এফডিআর, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শেয়ার এবং তিনটি যানবাহন রয়েছে। যানবাহনের মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকার বেশি। সব মিলিয়ে তার অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা।
রায়ে দণ্ডিত যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশের সম্পত্তির একটি অংশও বাজেয়াপ্তের তালিকায় রয়েছে। তবে ছাত্রনেতা সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ দেননি।
BanglaDock