`
ঢাকা | বাংলাব্দ
COX'S BAZAR WEATHER

তীব্র গরমে দেশজুড়ে লোডশেডিং, জ্বালানি সংকটে বাড়ছে বিদ্যুৎ ঘাটতির শঙ্কা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 14, 2026 ইং
তীব্র গরমে দেশজুড়ে লোডশেডিং, জ্বালানি সংকটে বাড়ছে বিদ্যুৎ ঘাটতির শঙ্কা ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত
ad728

তীব্র গরমে দিনে-রাতে দেশজুড়ে চলছে লোডশেডিং। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানার কার্যক্রম। বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদার পাশাপাশি জ্বালানি সংকটও তীব্র হওয়ায় সামনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।


পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টের ১০ তারিখ রাত ১টায় দেশে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছিল, যা এ বছরের সর্বোচ্চ। এর এক মাস পর, চলতি সেপ্টেম্বরের ১০ তারিখে লোডশেডিং হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট। ওই দিন একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎ সরবরাহও অর্ধেকে নেমে আসে।


প্রতি বছর গরমের সময়ে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা সামাল দিতে সাধারণত গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং করে রাজধানী ও শিল্পাঞ্চলে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয়। তবে এবার রাজধানীতেও নিয়মিত লোডশেডিং হচ্ছে।


রাজধানীর বাড্ডা, খিলগাঁও, তেজগাঁও, মগবাজার, মোহাম্মদপুর ও শ্যামলীসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনে ও রাতে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন বাসিন্দারা। এতে শিশুদের পড়াশোনা, দৈনন্দিন কাজ ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাঘাত ঘটছে।


ভুক্তভোগীরা জানান, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশুদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। আবার দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে রাখা খাবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পণ্য নষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর পক্ষে জেনারেটর চালানোও সম্ভব হচ্ছে না।


পিডিবির তথ্য বলছে, এ বছর কোনো কোনো দিন পিক আওয়ারে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার মেগাওয়াট। তবে বিশ্লেষকদের মতে, প্রকৃত চাহিদা এর চেয়েও বেশি হতে পারে।


এদিকে এলএনজি সংকট, টার্মিনালে ত্রুটি, কয়লা ও তেলের সংকট এবং আদানি পাওয়ারের সরবরাহ কমে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে চাহিদার সঙ্গে সরবরাহের ঘাটতি তৈরি হয়ে বাড়ছে লোডশেডিং।


আইইইএফএয়ের প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম বলেন, বিদ্যুতের চাহিদা এরই মধ্যে ১৯ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। এবার গরমের সময়ও আগের তুলনায় দীর্ঘ হচ্ছে। সেপ্টেম্বরেও প্রচণ্ড গরম থাকায় চাহিদা সামাল দেওয়া কঠিন হবে। লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি জ্বালানির দামের অস্থিরতাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংকটের সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় ও সিস্টেম লস কমানোর পাশাপাশি আগামী বছরের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে এখনই কার্যকর পরিকল্পনা নিতে হবে।


পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বি. ডি. রহমতউল্লাহ বলেন, সরকারের বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় দৃশ্যমান কোনো পরিকল্পনা নেই। যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্র ন্যূনতম রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে দ্রুত চালু করা সম্ভব, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে এখনই উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।


জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে সংকট এড়াতে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি দেশের নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। না হলে বাড়তে থাকা বিদ্যুতের চাহিদার সঙ্গে তাল মেলানো আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : BanglaDock

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচে থাকছে‘ডাবল’ ভিএআর

ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচে থাকছে‘ডাবল’ ভিএআর