`
ঢাকা | বাংলাব্দ
COX'S BAZAR WEATHER

সন্তান হারানোর ৫০ দিন পর কক্সবাজার ছাড়ল সেই নিউজিল্যান্ডের পরিবার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 15, 2026 ইং
সন্তান হারানোর ৫০ দিন পর কক্সবাজার ছাড়ল সেই নিউজিল্যান্ডের পরিবার ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত
ad728

সাগরে নৌযানডুবিতে ১৬ বছর বয়সী ছেলে আলবার্টকে হারানোর ৫০ দিন পর কক্সবাজার ছেড়েছে নিউজিল্যান্ডের একটি পরিবার। শোক, আইনি আনুষ্ঠানিকতা ও দেশে ফেরার প্রস্তুতি শেষে বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন পরিবারের সদস্যরা।


বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে ওঠেন ৭৪ বছর বয়সী জন এডওয়ার্ড পুডনি, তাঁর স্ত্রী বেলা (৩৬) ও ১৩ বছর বয়সী ছেলে রালফ। এর আগে বিকেল ৩টার দিকে তাঁরা পর্যটন মোটেল শৈবাল ছাড়েন। গত ২৫ আগস্ট সাগরে নৌযানডুবির পর জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিবারটিকে সেখানে রাখা হয়েছিল।


জন এডওয়ার্ড পুডনির স্বপ্ন ছিল স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে সমুদ্রপথে বিশ্বভ্রমণ শেষে নিজ দেশে ফেরা। সেই উদ্দেশ্যে প্রায় আড়াই বছরের পরিশ্রমে কাঠ দিয়ে তৈরি করেছিলেন ‘আইল্যান্ড গার্ল’ নামের নৌযানটি। এটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল দেড় কোটি টাকার বেশি।


গত ৭ এপ্রিল মহেশখালী চ্যানেল অতিক্রমের সময় বৈরী আবহাওয়ায় নৌযানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে পরিবারটি সোনাদিয়া দ্বীপে আশ্রয় নেয়। সেখানে দুর্বৃত্তদের হামলায় তাঁদের ক্যামেরা, মুঠোফোন, পাসপোর্ট, ডলারসহ বিভিন্ন মালামাল লুট হয়। পরে কোস্টগার্ড অভিযান চালিয়ে পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করে এবং লুট হওয়া অধিকাংশ মালামাল উদ্ধার করে।


এর কয়েক মাস পর ২৫ আগস্ট নাজিরারটেক ও সোনাদিয়া দ্বীপের মধ্যবর্তী সাগরে আবারও দুর্ঘটনায় পড়ে ‘আইল্যান্ড গার্ল’। কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা জন, তাঁর স্ত্রী বেলা ও ছোট ছেলে রালফকে জীবিত উদ্ধার করেন। তবে নিখোঁজ থাকে বড় ছেলে আলবার্ট। পরদিন বিকেল ৫টার দিকে সমিতিপাড়াসংলগ্ন সৈকত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।


জেলা প্রশাসন জানায়, আলবার্ট সাঁতার জানতেন না এবং তিনি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছিলেন। নৌযানডুবির সময় তাঁর লাইফ জ্যাকেটের ক্লিপ ঠিকভাবে আটকানো ছিল না বলে পরিবারের সদস্যদের ধারণা।


আলবার্টের মরদেহ উদ্ধারের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ১৩ সেপ্টেম্বর ময়নাতদন্ত করা হয়। পরে মরদেহ তাঁর বাবা জন এডওয়ার্ড পুডনির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর নিউজিল্যান্ড দূতাবাস ও পরিবারের সম্মতিতে কক্সবাজার শহরের একটি হিন্দু শ্মশানে আলবার্টের দাহ সম্পন্ন হয়। এরপর ভিসা, পাসপোর্ট ও বিমানের টিকিটসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে আরও কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয় পরিবারটিকে।


কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহান জানান, গত ৭ অক্টোবর পরিবারটির দেশে ফেরার কথা থাকলেও পাসপোর্ট, ভিসা ও বিমানের টিকিটসংক্রান্ত জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি। অবশেষে বুধবার তারা কক্সবাজার ছেড়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিউজিল্যান্ড দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিবারটির নিরাপত্তা ও দেশে ফেরার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করা হয়।


পর্যটন মোটেল শৈবালের ব্যবস্থাপক রায়হান উদ্দিন আহমেদ জানান, দুর্ঘটনার পর জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পরিবারটির থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। দীর্ঘ ৫০ দিন সেখানে অবস্থানকালে খাবার, নিরাপত্তাসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। বিদায়ের সময় তাঁদের দেশীয় পণ্য উপহার দেওয়া হয়েছে।


জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৬ আগস্ট থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত পর্যটন মোটেল শৈবালে পরিবারটির কক্ষভাড়া, খাবার ও লন্ড্রি বাবদ মোট বিল হয়েছে ৪ লাখ ২৪ হাজার ৬২৭ টাকা। এর মধ্যে এসি ডিলাক্স কক্ষের ভাড়ায় ২০ শতাংশ ছাড় দেওয়ার পর বিল দাঁড়ায় ২ লাখ টাকা। খাবারের বিল ২ লাখ ২১ হাজার ৫০৭ টাকা এবং লন্ড্রি বাবদ ব্যয় ৩ হাজার ১২০ টাকা। বিল পরিশোধের জন্য প্রতিবেদনটি নিউজিল্যান্ড হাইকমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।


পরিবারটির নিরাপত্তায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দুজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। বুধবার ছিল তাঁদের দায়িত্বের শেষ দিন।


কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, পরিবারটি প্রায় দুই বছর ধরে কক্সবাজারে অবস্থান করছিল। পরে নিজেদের তৈরি ‘আইল্যান্ড গার্ল’ নৌযানেই বসবাস শুরু করে। ভিসার মেয়াদসংক্রান্ত বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সমুদ্রপথে চট্টগ্রামের দিকে যাওয়ার সময় নৌযানটি দুর্ঘটনায় পড়ে। সেই যাত্রাই পরিবারটির জন্য হয়ে ওঠে এক বেদনাদায়ক অধ্যায়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : BanglaDock

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
প্রধানমন্ত্রীর প্রথম চট্টগ্রাম সফর আজ, আসবেন কক্সবাজারেও

প্রধানমন্ত্রীর প্রথম চট্টগ্রাম সফর আজ, আসবেন কক্সবাজারেও