রকেট প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন প্রজন্মের টেসলা রোডস্টার স্পোর্টস কার তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। গাড়িটিতে শূন্যে ভেসে থাকা ও দ্রুতগতিতে চলার মতো বিশেষ সক্ষমতা যুক্ত করার দাবি করেছেন তিনি।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের পরীক্ষাকেন্দ্রে বিশেষ আয়োজনের মাধ্যমে গাড়িটির প্রদর্শনী করা হয়।
দুই আসনবিশিষ্ট এই রোডস্টার সম্পর্কে মাস্কের দাবি, গাড়িটি শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৬০ মাইল গতিতে এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে পৌঁছাতে পারবে। প্রদর্শনীতে বিশেষ বায়ুচাপ প্রযুক্তির সাহায্যে খাড়া র্যাম্প বেয়ে ওঠা, শূন্যে ভেসে থাকার মতো অবস্থায় ঘোরা এবং মাটিতে অবতরণের কৌশলও তুলে ধরা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
গাড়িটিতে অন্য গাড়ির ওপর দিয়ে লাফ দেওয়া এবং পেছনের বিশেষ নজেলের সাহায্যে দ্রুত গতি অর্জনের সক্ষমতা দেখানোর কথাও বলা হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে প্রদর্শনীটি চালকবিহীন স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় পরিচালনা করা হয় বলে জানানো হয়েছে।
মাস্কের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়িটিতে ১০টি বিশেষ নজেল ও উচ্চচাপের বায়ু সংরক্ষণ ট্যাংক ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। টেসলার গাড়ি নির্মাণ প্রযুক্তি এবং স্পেসএক্সের রকেট প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি হবে এই বিশেষ যান।
সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে ২০২৮ সালে রোডস্টারের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন মাস্ক। তবে টেসলার বিভিন্ন পণ্য বাজারে আনার সময়সীমা অতীতে পিছিয়ে যাওয়ার নজির থাকায় নির্ধারিত সময়ে গাড়িটি বাজারে আসবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
গাড়িটির শূন্যে ভেসে থাকা বা উড্ডয়নের মতো সক্ষমতা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, এর নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে এবং সড়কে চলাচলের জন্য কী ধরনের আইনি অনুমোদন প্রয়োজন হবে—এসব প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। বাণিজ্যিক উৎপাদনের আগে এসব প্রযুক্তিগত ও নিয়ন্ত্রক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
BanglaDock