হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি পরিচিতজনেরাও প্রতারণার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে নিজের পরিচয়ে টাকা চাওয়া বা ক্ষতিকর লিংক পাঠানোর মতো ঘটনা ঠেকাতে নিচের পাঁচটি পদক্ষেপ অনুসরণ করা যেতে পারে।
প্রথমত, নিজের নিবন্ধিত ফোন নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে আবার লগইন করতে হবে। এসএমএস বা ফোনকলের মাধ্যমে পাওয়া ছয় সংখ্যার ভেরিফিকেশন কোড প্রবেশ করালে অন্য কারও ডিভাইসে চালু থাকা অ্যাকাউন্টের সেশন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তবে কোনো অবস্থাতেই এই কোড অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না।
দ্বিতীয়ত, অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার পর চ্যাটগুলো পরীক্ষা করতে হবে। প্রতারক পরিচিতদের কাছে টাকা চেয়ে বার্তা পাঠিয়েছে বা ফিশিং লিংক শেয়ার করেছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বার্তা মুছে ফেলতে হবে এবং প্রোফাইলের ছবি ও তথ্য পরিবর্তন করা হয়ে থাকলে সেগুলো ঠিক করতে হবে। পাশাপাশি পরিচিতদের জানাতে হবে, যাতে তাঁরা প্রতারণার শিকার না হন।
তৃতীয়ত, হোয়াটসঅ্যাপের ‘Settings’ থেকে ‘Linked Devices’ অপশনে গিয়ে যুক্ত থাকা ডিভাইসগুলো পরীক্ষা করতে হবে। অপরিচিত বা সন্দেহজনক কোনো ডিভাইস দেখা গেলে সেটি থেকে লগআউট করতে হবে।
চতুর্থত, স্বজন, বন্ধু ও পরিচিতদের দ্রুত সতর্ক করতে হবে। নিজের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে কেউ টাকা চেয়ে থাকলে বা সন্দেহজনক লিংক পাঠালে তা উপেক্ষা করতে তাঁদের অনুরোধ জানাতে হবে। প্রয়োজনে ফোনকল বা অন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে সতর্কবার্তা দেওয়া যেতে পারে।
পঞ্চমত, অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা বাড়াতে ‘Two-Step Verification’ চালু করতে হবে। হোয়াটসঅ্যাপের ‘Settings’ থেকে ‘Account’ অপশনে গিয়ে এ সুবিধা সক্রিয় করে একটি নিরাপদ পিন নির্ধারণ করা যায়। পিনটি অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করা উচিত নয়। অ্যাকাউন্টে ইমেইল যুক্ত করার সুযোগ থাকলে পুনরুদ্ধারের সুবিধার্থে সেটিও সঠিকভাবে সংযুক্ত রাখা যেতে পারে।
অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের সময় টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন পিন চাইলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। প্রতারক নিজের পিন সেট করে থাকলে এবং ব্যবহারকারীর কাছে সেটি বা পুনরুদ্ধারের ইমেইলের সুবিধা না থাকলে অ্যাকাউন্টে প্রবেশে বিলম্ব হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে হোয়াটসঅ্যাপের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে পিন ছাড়াই পুনরায় প্রবেশের জন্য সাত দিন অপেক্ষা করতে হতে পারে।
ডিজিটাল নিরাপত্তায় সামান্য অসতর্কতাও ব্যক্তিগত তথ্য ও আর্থিক লেনদেনকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। তাই ভেরিফিকেশন কোড বা পিন কাউকে না দেওয়া, অপরিচিত লিংকে ক্লিক না করা এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখার গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
BanglaDock