সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) জন্মতারিখ বা বয়স সংশোধনের ক্ষমতা আবারও মাঠ পর্যায়ে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ বা নির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে উপজেলা, জেলা ও সংশ্লিষ্ট থানা পর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তারা এখন থেকে এই আবেদন নিষ্পত্তি করতে পারবেন।
ইসির সাম্প্রতিক কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, আগের নিয়মে জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য নাগরিকদের ঢাকায় প্রধান কার্যালয়ে যেতে হতো এবং অনেক ক্ষেত্রে মাসের পর মাস আবেদন ঝুলে থাকায় হয়রানির শিকার হতে হতো।
২০২৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর জারি করা নির্দেশিকার মাধ্যমে জন্মতারিখ সংশোধনের মতো স্পর্শকাতর আবেদনগুলো কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নিষ্পত্তির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সেই ক্ষমতা আবার মাঠ পর্যায়ে ফিরছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এসএসসি, জেএসসি বা পিএসসি পরীক্ষার সনদের ভিত্তিতে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন স্থানীয় নির্বাচন অফিসেই নিষ্পত্তি করা যাবে। বিভাগীয় শহর ও সিটি করপোরেশন এলাকায় সংশ্লিষ্ট থানা নির্বাচন কর্মকর্তারা এই দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ছাড়া এনআইডির এলাকা পরিবর্তন বা ভোটার স্থানান্তরের আবেদন নির্ধারিত ফি দিয়ে অনলাইনে করা যাবে। ফলে এ সেবা পেতে নাগরিকদের সরাসরি কার্যালয়ে যেতে হবে না।
প্রথমবার এনআইডি সংশোধনের জন্য ভ্যাটসহ আবেদন ফি ১১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে। আগে আবেদন ও বায়োমেট্রিক তথ্য পাওয়ার পর দেশে দুই ধাপে তদন্ত করা হতো। এখন এক ধাপ তদন্তের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে এনআইডির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।
ইসি আরও জানিয়েছে, ভোটার তালিকার জন্য তথ্য সংগ্রহের বয়সসীমা ১৬ বছর থেকে আরও কমানো যায় কি না, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এসএসসি, অষ্টম শ্রেণি বা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির বয়স থেকেই তথ্য সংগ্রহের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, এনআইডি সংশোধন সেবা সহজ ও দ্রুত করতে মাঠ পর্যায়ে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন স্থানীয় পর্যায়েই দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।
BanglaDock