`
ঢাকা | বাংলাব্দ
COX'S BAZAR WEATHER

কক্সবাজারে চলতি মৌসুমে ৫০০ কোটি টাকার শুঁটকি উৎপাদনের আশা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Nov 5, 2026 ইং
কক্সবাজারে চলতি মৌসুমে ৫০০ কোটি টাকার শুঁটকি উৎপাদনের আশা ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত
ad728

কক্সবাজার উপকূলে চলতি মৌসুমে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার শুঁটকি উৎপাদনের প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ী ও উৎপাদনকারীরা। পরিবেশ অনুকূলে থাকলে গত বছরের তুলনায় উৎপাদন ও রপ্তানি—দুই ক্ষেত্রেই বাড়তি আয় হতে পারে বলে আশা তাঁদের।


দীর্ঘ ২২ দিনের সাগরে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা গত ২৯ অক্টোবর শেষ হওয়ার পর থেকেই কক্সবাজার উপকূলে শুঁটকি উৎপাদন বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের হিসাবে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় আট শতাধিক মহালে প্রতিদিন ১৫০ মেট্রিক টনের বেশি শুঁটকি উৎপাদিত হচ্ছে। কক্সবাজার পৌরসভার ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের ১৮টি গ্রাম নিয়ে গড়ে ওঠা নাজিরারটেক শুঁটকি পল্লিতেই ছোট-বড় প্রায় ৬০০ মহাল রয়েছে। এ ছাড়া টেকনাফ, সেন্ট মার্টিন, মহেশখালী ও সোনাদিয়া দ্বীপেও শুঁটকি উৎপাদন হয়।


বৃহস্পতিবার সকালে নাজিরারটেকের বিভিন্ন মহালে দেখা যায়, গভীর সাগর থেকে মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরছেন জেলেরা। ব্যবসায়ীরা সেই মাছ কিনে মহালে নিয়ে যাচ্ছেন। পরে শ্রমিকেরা মাছ বাছাই, পরিষ্কার ও ধোয়ার কাজ শেষে বাঁশের মাচায় রোদে শুকাতে দিচ্ছেন। লইট্টা, ছুরি, পোপা, মাইট্যা, কামিলা, ফাইস্যা ও রূপচাঁদাসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ দিয়ে তৈরি হচ্ছে শুঁটকি। এ কাজে বিপুলসংখ্যক নারী শ্রমিক যুক্ত রয়েছেন। তাঁদের অনেকের জীবিকার প্রধান অবলম্বন এই কাজ।


নেয়ামত এন্টারপ্রাইজের মহালে ৯ জন নারীসহ ৩০ জন শ্রমিক কাজ করছেন। নারী শ্রমিক সাবেকুন্নাহার জানান, মাছ ধরা আবার শুরু হওয়ার পর শুঁটকি উৎপাদনের ব্যস্ততা বেড়েছে। আরেক নারী শ্রমিক রোকেয়া বেগম বলেন, মাছ বাছাই ও রোদে শুকানোর কাজ করে তিনি তিন সন্তানের সংসার চালান। তাঁর দুই সন্তান স্কুলে পড়ে।


ব্যবসায়ীরা জানান, শীতকালে শুঁটকির চাহিদা বেশি থাকে। সাগরে মাছের প্রাপ্যতার ওপর উৎপাদন অনেকাংশে নির্ভর করে। পাশাপাশি পর্যটকের আগমন বাড়লেও শুঁটকির চাহিদা বাড়ে। কক্সবাজার শহরের ছোট-বড় ছয় শতাধিক হোটেল-রেস্তোরাঁয় পর্যটকদের খাবারের সঙ্গে শুঁটকির ভর্তা পরিবেশন করা হয়। ফলে পর্যটন মৌসুমেও এ পণ্যের বাজার সম্প্রসারিত হয়।


ব্যবসায়ী মোস্তফা সরওয়ার জানান, নাজিরারটেক এলাকায় ১৫ থেকে ২০ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। চলতি মৌসুমে সাগরে মাছের পরিমাণ কম থাকায় কাঁচা মাছের দাম বেশি। সঠিক বাজারমূল্য পেলে লাভের আশা করছেন তিনি। এ পর্যন্ত তাঁর এক কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে বলেও জানান।


আমান ট্রেডার্সের মালিক আমান উল্লাহ বলেন, শীতের শুরুতে উৎপাদিত নতুন শুঁটকির চাহিদা দেশজুড়ে বেশি। পুরোনো শুঁটকির তুলনায় নতুন শুঁটকির দাম কেজিতে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি। আগামী মে মাস পর্যন্ত উৎপাদন চলবে।


নাজিরারটেক শুঁটকি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি নেয়ামত উল্লাহ জানান, মহাল থেকে শুঁটকি কিনে ব্যবসায়ীরা প্রথমে গুদামে মজুত করেন। পরে প্রতি সপ্তাহে শুক্র ও মঙ্গলবার ট্রাকে করে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়। গত পাঁচ দিনে ৩০টি ট্রাকে ১২ থেকে ১৩ টন করে শুঁটকি সরবরাহ করা হয়েছে। কাঁচা মাছের দাম বেশি হওয়ায় গত বছরের তুলনায় এবার শুঁটকির দামও বেড়েছে।


স্থানীয় মহাল ও বাজারে প্রতি কেজি ছুরি শুঁটকি ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা, লইট্টা ৫০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, ফাইস্যা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, পোপা ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, মাইট্যা ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, রূপচাঁদা ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৭০০ টাকা, লাক্ষ্যা ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা এবং কোরাল ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে দাম কেজিতে আরও ৫০ থেকে ২০০ টাকা বেশি। খুচরা বিক্রেতাদের মতে, গত বছরের তুলনায় এবার শুঁটকির দাম ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বেড়েছে।


জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কক্সবাজার জেলায় ৩৯ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন শুঁটকি উৎপাদিত হয়েছিল। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪২ হাজার মেট্রিক টন। প্রতিদিনের উৎপাদন বিবেচনায় এ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন তিনি। সাধারণত অক্টোবর-নভেম্বর থেকে শীত মৌসুমজুড়ে উপকূলীয় এলাকায় শুঁটকি উৎপাদন চলে।


বাংলাদেশ শুঁটকি মাছ রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি আবদুল শুক্কুর বলেন, গত বছর জেলার অন্তত ৪০টি মহাল থেকে হংকং, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় শুধু পোপা শুঁটকি রপ্তানি করে প্রায় ২০০ কোটি টাকা আয় হয়েছে। পরিবেশ অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে শুঁটকি রপ্তানি থেকে ৩০০ কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। পোপা শুঁটকি দিয়ে সুস্বাদু স্যুপ তৈরি হওয়ায় বিদেশে এর চাহিদা বেশি।


কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা জানান, পর্যটকসহ দেশের মানুষের কাছে বিষমুক্ত শুঁটকি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত বছর জেলায় প্রায় ৪০০ কোটি টাকার শুঁটকি উৎপাদিত হয়েছিল। পরিবেশ ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে এবার উৎপাদন ৫০০ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।

সূত্র: বাসস।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : BanglaDock

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
কক্সবাজারে ব্লু ইকোনমি বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে প্

কক্সবাজারে ব্লু ইকোনমি বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে প্