মেটার তৈরি ‘রে-ব্যান মেটা’ স্মার্ট চশমা ব্যবহার করে অপরিচিত নারীদের অজান্তে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে জনসমক্ষে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, সম্মতি ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভারতের এমন একটি ঘটনায় মেটার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের কলকাতার ৩৫ বছর বয়সী অধ্যাপক ইয়ামিনি গত জুনে বাড়ি ফেরার পথে এক অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি জানতে পারেন, ওই ব্যক্তি মেটার স্মার্ট চশমা দিয়ে তাদের কথোপকথন গোপনে ধারণ করে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করেছেন।
ভিডিওটি ‘পিক-আপ আর্টিস্ট’ কনটেন্ট হিসেবে প্রকাশ করা হয় এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ২৩ লাখের বেশি মানুষ ভিডিওটি দেখেন। পরে ভিডিও দেখে ইয়ামিনি বুঝতে পারেন, ওই ব্যক্তি কথা বলার আগে কিছুক্ষণ তাকে অনুসরণও করেছিলেন।
এ ধরনের ঘটনায় ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। চলতি বছর যুক্তরাজ্যের ২২ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ইসোবেল থম্পসনও অভিযোগ করেন, এক ব্যক্তি মেটার স্মার্ট চশমা দিয়ে তাকে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশের কথা জানিয়েছিলেন।
ইয়ামিনির পক্ষে ভারতের ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশন মেটাকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে। এতে ভিডিওর সব কপি সরানো, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট ও যন্ত্রের তথ্য প্রকাশ, প্রমাণ সংরক্ষণ, ক্ষমা চাওয়া এবং প্রায় ২ কোটি ৫ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণসহ বিভিন্ন দাবি জানানো হয়েছে।
মেটার দাবি, স্মার্ট চশমায় গোপনীয়তা রক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। ভিডিও ধারণের সময় চশমায় একটি এলইডি বাতি জ্বলে, যা বন্ধ করা যায় না। কেউ সেটি ঢেকে দিলে ক্যামেরা নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে ইয়ামিনি জানান, তিনি ওই ব্যক্তির চশমায় কোনো রেকর্ডিং বাতি দেখতে পাননি।
মেটা জানিয়েছে, ইয়ামিনিকে নিয়ে তৈরি ভিডিওটি পরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্মার্ট চশমার গোপনীয়তা সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করার কাজ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
BanglaDock