কক্সবাজারে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ইনানীর টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শহরের সুগন্ধা পয়েন্টের ‘দ্য সি প্রিন্সেস’ আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। একই দিন সন্ধ্যায় ইনানীর ‘কোরাল স্টেশন’ রেস্তোরাঁয়ও আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। তবে এসব ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে সৈকত এলাকা থেকে হারিয়ে যাওয়া পাঁচ শিশুকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শনিবার (২৪ অক্টোবর) কক্সবাজার পাবলিক হলে হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিক, ব্যবস্থাপক, সংশ্লিষ্ট সমিতি এবং অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে জেলা প্রশাসন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে কক্সবাজার শহরের সুগন্ধা পয়েন্টের দ্য সি প্রিন্সেস আবাসিক হোটেলের জেনারেটর রুমে আগুন লাগে। ওই সময় হোটেলটিতে তিন শতাধিক পর্যটক অবস্থান করছিলেন। দ্রুত সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে জেনারেটরের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হোটেলটির পরিচালক কুতুব উদ্দিন জানান, লোডশেডিংয়ের কিছুক্ষণ পর জেনারেটর চালু করা হয়েছিল। একপর্যায়ে শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগলে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে হোটেলের কক্ষগুলো থেকে পর্যটকদের নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয়।
একই দিন সন্ধ্যায় ইনানীর ‘কোরাল স্টেশন’ রেস্তোরাঁয় আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়লে পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। তবে কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে বারবিকিউ চুলার আগুন বলে উল্লেখ করে।
এদিকে, ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের সদস্যরা সৈকত এলাকায় বিভিন্ন সময়ে হারিয়ে যাওয়া পাঁচ শিশুকে উদ্ধার করে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছেন। উদ্ধার হওয়া শিশুরা হলো ময়মনসিংহের মো. আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. ইফাজ (৮), ঢাকার খান মো. ফারাবির মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (৭), রাজশাহীর মো. নাজমুলের ছেলে নাবিল (৫), ভোলার মো. মাসুদ হাসানের ছেলে মো. রেজওয়ান (৩) এবং ফেনীর শরিফ মো. দোরত হোসাইনের মেয়ে মোহসিনা মেহেরিস ফাতেহা।
ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার নিশাত এঞ্জেলা বলেন, পর্যটকদের সেবায় ট্যুরিস্ট পুলিশ সব সময় নিয়োজিত রয়েছে। ভ্রমণের সময় শিশুদের যেন অভিভাবকেরা চোখের আড়াল হতে না দেন, সে আহ্বান জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, পর্যটনশিল্পের বিকাশে বিতর্কিত ইসিএ আইন বাতিলে সরকার কাজ করছে। কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পকে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিতে হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোকে মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবার মান নিশ্চিত করা যায়।
সম্প্রতি মেরিন ড্রাইভ সড়কের টুপটাপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড এবং সমুদ্রসৈকতে পর্যটকের ডুবে মৃত্যুসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এ অবস্থায় পর্যটন খাতের নিরাপত্তা, প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুমোদন ও পরিচালনব্যবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান। তিনি বলেন, পর্যটনশিল্পের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। হোটেল-রিসোর্ট মালিকদের জন্য ওয়ানস্টপ সেবা চালুর আশ্বাসও দেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামীম আরা বেগম স্বপ্না হোটেল-রিসোর্ট মালিকদের অপ্রাপ্তবয়স্ক কাউকে কক্ষ ভাড়া না দেওয়ার পরামর্শ দেন।
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাজিদুল ইসলাম হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁ পরিচালনার বিধিবিধান, নিবন্ধন, নবায়ন, লাইসেন্স স্থগিত ও বাতিল এবং তারকামানের হোটেলের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা ও মানদণ্ড নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) সচিব সানজিদা বেগম, ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার নিশাত এঞ্জেলাসহ ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগ, পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি এবং হোটেল-রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ মালিকেরা বক্তব্য দেন।
BanglaDock